তহবিলের প্রস্তাব মোদীর, একত্রে কাজের আহ্বান হাসিনার

কৃষি কাগজ

প্রকাশিত : ০৯:০৯ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২০ রোববার | আপডেট: ০৯:১০ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২০ রোববার

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সার্ক তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর প্রাণ সংহারক ভাইরাসটির প্রতিরোধে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারী রূপ ধারণ করার প্রেক্ষাপটে রবিবার দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) নেতাদের এক ভিডিও কনফারেন্সে এই প্রস্তাব আসে ভারত ও বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের।

করোনা ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা সার্কভূক্ত সদস্য দেশগুলোর নেতাদের কাছে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে পাঁচজন করোনা সংক্রমিত ব্যক্তি এসেছেন। স্থানীয়ভাবে কোনও সংক্রণের ঘটনা পাওয়া যায়নি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মোকাবেলায় কৌশলগত বিষয় নিয়ে আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসচিবরাও এ ধরনের সম্মেলনে আলোচনা করতে পারেন। আমি আশা করছি, এই সম্মেলন করোনা মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে নতুন পথের দিশা দেবে।’

চীনের উহান থেকে সবশেষ ২৩ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ভারতীয় বিমানে নিয়ে আসায় মোদিকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

কনফারেন্সের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করোনা মোকাবেলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেন। এসময় তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এটিকে খাটো করে দেখার কোনও সুযোগ নেই।

মোদি করোনা প্রতিরোধে ‘জরুরী তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব দেন। এই তহবিলের জন্য তার দেশ শুরুতে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে বলে জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ভারতের কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ সমন্বয় করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মোদী।

তিনি বলেন, ‘সার্কের সদস্য দেশগুলোকে সজাগ থাকা দরকার। যদিও আমরা এখন পর্যন্ত ১৫০ জন করোনা আক্রান্ত পেয়েছি। আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে, আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। করোনাভাইরাসের লড়াইয়ে আমাদের অবকাঠামোগত স্থাপনার কাজ বাড়ানো হয়েছে।’

করোনা প্রতিরোধে ভারতের পদক্ষেপ সম্পর্কে মোদি বলেন, ‘ধাপে ধাপে বিভিন্ন পদক্ষেপ এটি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত (ভালনারেবল) গোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ নজর দিচ্ছি এবং মেডিক্যাল স্টাফদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিজেদের সামর্থ্য বৃদ্ধির দ্রুত চেষ্টার জন্য কাজ করছি।’

সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরে দুই জনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশ হয়। একারণে জম্মু ও সাম্বা জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। কাশ্মীরের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায় পাকিস্তান।

এছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন বলে জানিয়েছেন তার বিশেষ সহকারী জাফর মির্জা। তিনি আরো বলেন, করোনাভাইরাস ঠেকাতে পাকিস্তান সতর্ক রয়েছে।

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি বলেন, ‘ভারত সাংহাই কো-অপারেশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, চীনও এর সদস্য। আমি চীনের অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য তাদের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় বাড়ানোর প্রস্তাব করছি।’

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সার্কভূক্ত দেশগুলোর মাঝে একটি সাধারণ টেলি-মেডিসিন কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দেন আফগান প্রেসিডেন্ট।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম মোহাম্মদ সোলিহ বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মালদ্বীপ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। ভাইরাসের লাগাম টানতে পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করাই আমাদের লক্ষ্য।

বিশ্বজুড়ে মহামারীর আকার নেয়ার প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত শুক্রবার সকালে এক টুইট বার্তায় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় এক সঙ্গে কাজ করতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান মোদী। এরপর বাংলাদেশসহ সার্কের সাতটি সদস্য দেশ মোদীর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার কথা জানায়।

ভিডিও কনফারেন্সে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি গোটাবে রাজাপাকসেও কথা বলেন।