ঢাকা, মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬

Live

৮ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি মিলেছে

১৬:৩৫, ১৪ মার্চ ২০২০ শনিবার

গত মাসে ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর পর থেকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা দেশটি থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করতে উদ্যোগ নেন। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (ইমপোর্ট পারমিট বা আইপি) চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে আবেদন করা হয়। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আপাতত আট হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির আইপি ইস্যু করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে আমদানি করা এসব পেঁয়াজ দেশে আসতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন জানান, পাঁচ মাস ধরে পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছিল ভারত। ফলে দেশটি থেকে পণ্যটির আমদানি পুরোপুরি বন্ধ ছিল। অবশেষে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যমান এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। আমদানি প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করার রাস্তা খুলেছে। মার্চের শুরুতে হিলির কয়েকজন আমদানিকারক ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করতে কৃষি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এ সময় তারা ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করতে আইপি চান।

মোবারক হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, হিলি স্থলবন্দরের ৫ আমদানিকারক ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করতে প্রয়োজনীয় আইপি পেয়েছেন। তারা সব মিলিয়ে ৮ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবেন। সবাই ফেব্রুয়ারিতেই আইপি চেয়ে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে আবেদন করেছিলেন। তবে মার্চে যেসব আমদানিকারক আবেদন করেছেন, তাদের আইপি ইস্যু করা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে আমদানিকারকরা পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খুলেছেন। ভারতের বিভিন্ন মোকামে রফতানির জন্য পেঁয়াজ লোডিংও শুরু হয়েছে। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে আগামীকাল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা এসব পেঁয়াজ দেশে ঢুকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের রোগতত্ত্ববিদ মাহামুদুল হাসান মুসা বণিক বার্তাকে বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য দেশীয় আমদানিকারকদের আইপির প্রয়োজন হয়। তারা অনলাইনে আবেদন করেন। ঢাকা থেকে আইপি ইস্যু হয়। স্থানীয় অফিসের মূল কাজ হলো আমদানি করা এসব পেঁয়াজ যাচাই-বাছাই করা। আইপি ঠিক থাকলে আমদানি করা পেঁয়াজ পরীক্ষা করে দ্রুত ছাড় করে দেব।

এদিকে ভারত থেকে আমদানি শুরু হচ্ছে—এমন খবরে হিলির পাইকারি বাজারে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্থানীয় বাজারে পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা কমে গেছে।

গতকাল হিলির পাইকারি বাজার ঘুরে মেহেরপুরের সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এক সপ্তাহ আগেও পণ্যটি কেজিপ্রতি ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সেই হিসাবে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সুখসাগর জাতের পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমেছে। অন্যদিকে এদিন পাবনার মুড়িকাটা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হয়। সপ্তাহখানেক আগেও পণ্যটি কেজিপ্রতি ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ জাতের পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ২৫ টাকা।

স্থানীয় পেঁয়াজ বিক্রেতা শাকিল খান বণিক বার্তাকে বলেন, পেঁয়াজ রফতানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর থেকেই বাজারে পণ্যটির দাম কমতে শুরু করে। এখন আগামীকাল থেকে আমদানি শুরুর খবরে পেঁয়াজের দাম অনেকটাই কমে এসেছে। এরই মধ্যে আমদানি শুরুর এ খবর দেশের সব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বড় ধরনের দরপতনের আশঙ্কা থেকে দেশীয় উৎপাদনকারীরা ক্ষেত থেকে আগেই পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করে দিচ্ছেন। কিছুদিন ধরে বাজারে পণ্যটির সরবরাহও বাড়তির দিকে রয়েছে। সব মিলিয়ে পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় অনেকটা কমে এসেছে।