ঢাকা, সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

Live

২০১৯-২০’বার্ষিক গবেষণা পরিকল্পনা প্রণয়ন শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নিজেস্ব প্রতিবেদক

২২:১৪, ৩ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক আয়োজিত ‘বার্ষিক গবেষণা পরিকল্পনা প্রণয়ন ২০১৯-২০’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী কর্মশালার উদে¦াধনী অনুষ্ঠান গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ঢাকাস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তন, ফার্মগেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এর ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৬২টি গবেষণা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়েছেু।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মো. আশরাফ আলী খান খসরু এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মশালার শুভ উদ্বোধন করেন।


মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. রইছউল আলম মন্ডল কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব আবু সাইদ মো. রাশেদুল হক ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. কবির ইকরামুল হক । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ।


কর্মশালায় প্রধান অতিথি বলেন, দেশীয় ছোট মাছ আমাদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির অংশ। হাওর ও বিল এসব ছোট মাছের আধার হিসেবে এক সময় পরিচিত ছিল। প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট নানা কারণে এসব মাছ হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। আশার কথা যে, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন¯িটটিউট এসব মাছ নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে বিলুপ্তপ্রায় ৬৪টি মাছের মধ্যে ইতোমধ্যে ২১টি মাছের জীনপুল সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে বাজারে এসব মাছের প্রাপ্যতা সাম্প্রতিককালে বৃদ্ধি পেয়েছে। খাবার টেবিলে ফিরে আসছে এসব সুস্বাদু মাছ। দেশীয় ছোট মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিবিড় গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে হাওর ও বিলকে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় আনার জন্য হাওর ও বিলের উপর বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন¯িটটিউট এর আওতায় নেত্রকোণা ও গোপালগঞ্জে ২টি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।


সে সাথে উত্তরবঙ্গে খরাপ্রবণ এলাকায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইন¯িটটিউটের নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপকেন্দ্রটিকে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কাপ্তাই লেককে বিজ্ঞান ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে এর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য লেক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ষ্ট্যাকহোল্ডারদের নিয়ে আমরা সভা/কর্মশালা করেছি। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে মিঠাপানির মাছের উৎপাদন আরো বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করছি। যে দেশ যত বেশী প্রযুক্তি নির্ভর সে দেশ তত বেশী উন্নত। প্রযুক্তিগত উন্নতি ছাড়া কোন দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করে গবেষণায় সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক বলে জানান তিনি।

https://www.krishikagoj.com/media/PhotoGallery/2018March/mmmm-1910031613.jpg
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বলেন, মৎস্য খাতের সার্বিক উন্নয়নে গবেষণার কোন বিকল্প নেই। এ বিষয়টি বর্তমান সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে গবেষণা খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের প্রচলিত মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের পাশাপাশি বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন অপ্রচলিত মৎস্যসম্পদ যেমন- কাঁকড়া, কুচিয়া, সী-উইড, শামুক, ঝিনুক ইত্যাদির উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এ প্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এসব অপ্রচলিত মৎস্য সম্পদের গুরুত্ব বিবেচনা করে ইত্যেমধ্যে নানামুখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। কাঁকড়া, কুচিয়া ও সী-উইড উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিএফআরআই থেকে বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ নিয়ে আমাদের আরো কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ১টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শামুক ও ঝিনুকের প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবনের ওপর গবেষণা শুরু হয়েছে।


কর্মশালায় সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, ইনস্টিটিউটের সামুদ্রিক গবেষণা জোরদার করার লক্ষ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারস্থ সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গবেষণা জোরদার করা সম্ভব হচ্ছে। তাছাড়া, সীউইড চাষ উন্নয়ন এবং শামুক-ঝিনুক সংরক্ষণ ও উন্নয়নে ইন¯িটটিউটের আরো ২টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচালিত গবেষণা সুনীল অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উক্ত কর্মশালায় বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণ কর্মী, সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধি বৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মৎস্য প্রায় ২০০ সেক্টরের উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত উদ্যোক্তা ও মৎস্য চাষীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি কাগজ/এস এম