ঢাকা, সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

Live

হালুয়ায় একটু ভিন্নতা

১১:১৫, ১৭ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার

সামনেই পবিত্র শবে বরাত। শবে বরাতের দিন হালুয়া বানানোর রীতি আছে এখনো। বাড়িতেই নানা রকমের হালুয়া বানানো হয়। প্রতিবেশীর বাড়িতেও পাঠিয়ে থাকেন অনেকে। প্রতিবছর একই উপাদান দিয়ে তৈরি হালুয়ায় এ বছর আনতে পারেন ভিন্নতা। রেসিপি দিয়েছেন সেলিনা আখতার

ছবি: খালেদ সরকার

উপকরণ

ডিম ৬টি, চিনি পৌনে কাপ, কুসুম গরম ঘন দুধ পৌনে কাপ, ঘি সিকি কাপ, এলাচির গুঁড়ো আধা চা-চামচ, দারুচিনি ২ টুকরো, জাফরান সামান্য, পেস্তা ও কাঠবাদামকুচি স্বাদমতো।

প্রণালি
ডিম ভালো করে ফেটিয়ে সব উপকরণ একসঙ্গে ভালো করে মেশাতে হবে। এবার হালকা আঁচে কড়াইয়ে মিশ্রণটি ঢেলে নাড়তে থাকুন। সাবধানে নাড়তে হবে যেন তলায় লেগে না যায়। ডিম জমাট বেঁধে হালকা মিহিদানার মতো হয়ে এলে এবং হালুয়া থেকে ঘি বের হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। খুব বেশি ভাজবেন না, তাহলে হালুয়া শক্ত হয়ে যাবে। পরিবেশন পাত্রে ঢেলে মাওয়া বা পেস্তাকুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন মজার স্বাদের ডিমের হালুয়া।

ছবি: খালেদ সরকার

পেঁপের হালুয়া

উপকরণ
কাঁচা পেঁপে (সেদ্ধ ও ব্লেন্ড) ২ কাপ, চিনি ১ কাপ, ঘি আধা কাপ, মাওয়ার গুঁড়া সিকি কাপ, এলাচির গুঁড়া আধা চা-চামচ, সবুজ খাওয়ার রং সামান্য, কিশমিশ এবং বাদামকুচি সাজানোর জন্য।

প্রণালি
প্রথমে পেঁপের খোসা ছাড়িয়ে ভাপিয়ে নিন। ব্লেন্ডারে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। এবার একটি প্যানে ঘি দিয়ে ব্লেন্ড করা পেঁপে দিয়ে ভাজতে থাকুন। এখন এতে একে একে চিনি, মাওয়া, এলাচির গুঁড়া দিয়ে ভাজতে থাকুন। প্যান থেকে ছেড়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে কিশমিশ ও বাদাম দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন পেঁপের হালুয়া।

ছবি: খালেদ সরকার

উপকরণ
বুটের ডালবাটা ২ কাপ, ঘি আধা কাপ, চিনি ১ কাপ, এলাচি ৪–৫টি, ঘন দুধ আধা কাপ।

প্রণালি
অর্ধেক পরিমাণ ঘি প্যানে দিয়ে আস্ত এলাচি ফোড়ন দিন। এবার বেটে রাখা ডাল এবং চিনি একসঙ্গে দিয়ে ভাজতে থাকুন। চিনি থেকে বের হওয়া পানি শুকিয়ে গেলে তাতে বাকি সব উপকরণ দিয়ে আরও ভাজতে থাকুন। দলা পাকিয়ে এলে বাকি ঘি দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে নেড়ে নামিয়ে নিজের পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

ছবি: খালেদ সরকার

উপকরণ
সুজি আধা কাপ, নারকেল কোরানো ২ কাপ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, পানি আধা কাপ, চিনি দেড় কাপ, দুধ আধা কাপ, জাফরান সামান্য, ঘি ১ চা-চামচ (পাত্রের গায়ে লাগানোর জন্য), কাজুবাদামকুচি ২ চা-চামচ, সাজানোর জন্য এলাচির গুঁড়ো ১ চা-চামচ।

প্রণালি
প্রথমে চুলায় প্যান দিয়ে কোরানো নারকেল টেলে নিতে হবে। হালকা রং ধরলে নামিয়ে নিন। এবার প্যানে সামান্য ঘি দিয়ে সুজি টেলে নিন। একটু লালচে রং হয়ে এলে নামিয়ে নিতে হবে। এবার চুলায় অন্য একটি প্যান দিয়ে তাতে চিনি ও পানি দিন। শিরা তৈরি করুন। শিরা আঠা আঠা হলে টেলে রাখা কোরানো নারকেল দিয়ে ঘন ঘন নাড়তে থাকুন। ঘন দুধ ও জাফরান দিয়ে দিন। নাড়তে থাকুন। যতক্ষণ না নারকেল থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ নাড়তে থাকুন। নারকেল শুকিয়ে এলে টেলে রাখা সুজি ও ঘি দিয়ে ঘন ঘন নাড়তে থাকুন। কাজুবাদামকুচি এবং এলাচির গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন। একটি ট্রেতে ভালো করে ঘি মাখাতে হবে। রান্না করা নারকেল মিশ্রণটি ঢেলে দিন। এরপর হাত দিয়ে চাপ দিয়ে সমানভাবে ট্রেতে বসিয়ে দিন। ঠান্ডা হয়ে এলে বরফি আকারে কেটে পরিবেশন করুন।

 ছবি: খালেদ সরকার

উপকরণ
কাঠবাদাম ১ কাপ, কাজুবাদাম ১ কাপ, দুধ ১ থেকে দেড় কাপ, চিনি ১ কাপ, ঘি আধা কাপ, এলাচির গুঁড়া ১ চা-চামচ, জাফরান সামান্য, বাদামকুচি (সাজানোর জন্য)।

প্রণালি
কাঠবাদাম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর ওপরের খোসা হাত দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। একটি ব্লেন্ডারে কাঠবাদাম, কাজুবাদাম ও দুধ ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। একটি ননস্টিক প্যানে এই পেস্টটি ঢেলে নিন ও চিনি যোগ করুন। হালকা আঁচে তাপ দিতে থাকুন যতক্ষণ না চিনি পুরোপুরি গলে যায়। এরপর মিশ্রণ ঘন ঘন নাড়তে থাকুন এবং একটু একটু করে ঘি মেশাতে থাকুন। প্যান থেকে ছেড়ে আসে তখন নামিয়ে নিন। এবার একটু ঠান্ডা হতে দিন। একটি ট্রেতে অল্প পরিমাণে ঘি লাগিয়ে নিয়ে মিশ্রণটি তাতে ঢেলে দিন। ওপরে বাদামকুচি ছড়িয়ে চেপে চেপে সমান করে নিন ওপরেরটা। জমাট বেঁধে এলে বরফির আকারে কেটে নিন এবং ঠান্ডা হওয়ার জন্য রেখে দিন।

ছবি: খালেদ সরকার

উপকরণ
গাজর গ্রেট করা ২ কাপ, বিট গ্রেট করা আধা কাপ, চিনি ১ কাপ, ঘন দুধ ২ কাপ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, এলাচির গুঁড়া ১ চা-চামচ, কিশমিশ, কাজু পেস্তাকুচি সাজানোর জন্য।

প্রণালি
গ্রেট করা গাজর ও গ্রেট করা বিট প্যানে একসঙ্গে মিলিয়ে নিন। এবার তাতে দুধ দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। সেদ্ধ হয়ে এলে গাজরের মধ্যে চিনি দিয়ে দিন। চিনির পানি শুকিয়ে গেলে তাতে ঘি দিয়ে দিন। নাড়ুন নিয়মিত। গাজর ও বিট প্যান থেকে ছেড়ে গেলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

কৃষি কাগজ/এস এম