ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

Live

স্বপ্নের ক্যাম্পাস যেমন হওয়া চাই

আতিকুর রহমান

০০:১০, ২৬ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার

প্রতিটি শিক্ষার্থীরই স্বপ্ন থাকে একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা আর সেটা যেনো অবশ্যই তার মনের মতো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটা হয়ে উঠে তার দ্বিতীয় বাড়ির মতো। সবুজ আর শান্ত পরিবেশে লেখাপড়া করতে সবাই চায়। কিন্তু ইট-পাথরের এ শহরে এমন মনের মতো ক্যাম্পাস পাওয়া দুষ্কর। তবুও শিক্ষার্থীদের মনের বাসনা একটু অন্যরকমই থাকে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত জানাচ্ছেন এডুকেশন বাংলার প্রতিনিধি আতিকুর রহমান।

নাবিল তাহমিদ রুশদ
ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ, মাস্টার্স ১ম সেমিস্টার
জ্ঞান সৃষ্টির স্থান হলো বিশ^বিদ্যালয়। কিন্তু এ সৃষ্টি বর্তমানে অনেকটাই ব্যর্থ হচ্ছে যার প্রধান কারন আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা, আধুনিক ল্যাব আর শ্রেনীকক্ষের স্বল্পতা, একই কোর্সের পুনরাবৃত্তি, পাঠ্যক্রমে সৃজনশীলতার অভাব। উন্নত তথ্য প্রযুক্তির যুগে এসে সেই পুরনো পথ আর পরিকল্পনা নিয়ে পড়ালেখা করতে নারাজ শিক্ষার্থীরা।এতে শিক্ষার্থীদের সময় সৃজনশীলতা সবই নষ্ট হচ্ছে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি বাকৃবি শিক্ষা গবেষণায় এগিয়ে থাকলেও এতে থেমে থাকলে চলবে না। শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস, সময়োপযোগী কোর্স কারিকুলাম, আধুনিক ল্যাব, নিয়মিত প্রেজেন্টেশেনের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে। মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অপরাজনীতিমুক্ত বাকৃবির স্বপ্ন দেখি আমি। প্রানের বাকৃবি তবেই হবে শিক্ষার তীর্থস্থান ।
নিবিড় কান্তি রয়
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ, ২য় বর্ষ
আসলে বিশ^বিদ্যালয় হবে একটি মুক্তমনাদের জায়গা যেখানে সবাই স্বাধীন থাকবে। কারো উপর কারো কোন কর্তৃত্ব থাকবে না। যেথানে শিক্ষার্থীদের সব বিষয়েই জ্ঞান থাকবে, সে একটি বিষয় নিয়ে পড়ে থাকবে না। শীট বা হ্যান্ডনোটের প্রতি মুখাপেক্ষী না হয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রতিটা কোন থেকে তারা শিক্ষা গ্রহণ করবে। সৃজনশীল ও বুদ্ধিভিত্তিক চর্চা থাকবে প্রতিটি আড্ডায়। বিশ^বিদ্যালয়ের প্রসাশন হবে স্বায়ত্ত¡শাসিত, যেখানে কোন ক্ষমতাসীন দলের হস্তক্ষেপ থাকবে না। এখানে কতৃত্ব থাকলেই শোষণ থাকবে আর বিশ^বিদ্যালয়ের মত একটা মুক্ত জায়গায় এটা আশা করা যায় না।

শাহরিয়ার আহমেদ
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ, তৃতীয় বর্ষ
আতিক আপনাকে ধন্যবাদ। বিশ^বিদ্যালয়ে আসার আগে সবার মধ্যেই ক্যাম্পাস নিয়ে অনেক জল্পনা কল্পনা থাকে যার পুরাটা না হলেও কিছুটা বাস্তবায়ন হয়। বলতে গেলে কিছুটা অপুর্ণতা পুষে বেড়াচ্ছি। ইচ্ছে ছিল ক্যাম্পাসে বছরব্যাপী শিল্প সাহিত্যের আড্ডা, সৃজনশীল ও রুচিশীল নাট্য মঞ্চায়ন, চায়ে চুমুকের ফাঁকে কবিতার আসর আর দেশি বিদেশী সাহিত্যের চর্চা হবে। কিন্তু বাস্তবতা একটু অন্যরকম। সবাই মুখস্তভিত্তিক পড়াশোনা আর অদ্ভুতরকমভাবে বিসিএসের ঘোরে থাকে। কিন্তু এটা ছাড়াও কৃষিতে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। সৃজনশীলতার এ যুগে এটা মানায় না।


তোরসা সরকার
মৎসবিজ্ঞান অনুষদ, ১ম বর্ষ
আমার কাছে বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাস একটা পরিবারের মতো। আমি চাই এ পরিবারের সবাই মিলেমিশে নিজ নিজ জায়গা থেকে তাদের দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করবে। এ ক্যম্পাসটি একটি সুন্দও, সজীব, পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে উঠবে এটাই আমার ইচ্ছা। কেননা মাদক মেধা ও মেধাবীকে পুরোপুরি ধ্বংশ করে দেয় যা একটি জাতির জন্য হুমকিস্বরুপ। সবশেষে বলতে চাই আমার এ প্রানের ক্যাম্পাস যেনো প্রতি বছর বিভিন্ন উৎসবে বর্ণিল সাজে নিজেকে মেলে ধরে। হিম উৎসব, বর্ষবরণ, পিঠা উৎসব, শারদব্যঞ্জনাসহ বিভিন্ন উৎসবে আমাদের সংস্কৃতিকে ধরে রাখবে।

সিহাব সাকিব ঈশান
পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, মাস্টার্স ১ম সেমিস্টার
হৃদয়পৃষ্টে মিশে থাকা প্রানের ক্যাম্পাস কেমন দেখতে চাই ভাবতেই অপূর্ণ সব স্বপ্নের দল চোখে মুখে ভেসে উঠল। আমি বাকৃবিকে দেখতে চাই দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি আর গবেষণার একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত বা রোল মডেল হিসেবে। একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা তথাকথিত জীর্ণ শীর্ণ শিক্ষাব্যাবস্থার বাঁধা ডিঙিয়ে আধুনিক উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত দেশ ও দশকে পৃথিবীর কাছে চেনাবে, অন্যদিকে এ বিশ^বিদ্যালয়েরই একদল ছাত্র মহাকাশের প্রানহীন নক্ষত্রগুলাকেও সবুজে ঢেকে দেওয়ার নকশা তৈরীর পরিকল্পনা বুনবে। ১২৬০ একরের প্রতিটি ইঞ্চিতে থাকবে মানুষ আর মনুষ্যত্বের আলোয় উদ্ভাসিত হবার তাগিদ। এ প্রাঙ্গনে গান, কবিতা, আড্ডা, বিতর্ক, নাটক, সেমিনার সবই হবে। ছাত্র, শিক্ষক, কর্মচারী সবাই মিলে হবে একটি গাছ, যার গল্প ছড়িয়ে পড়বে মানুষের মুখে মুখে, ঘরে ঘরে, পৃথিবীময়।

ওয়াহিদা তানজিম
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ, ৪র্থ বর্ষ
আমার প্রানের ক্যাম্পাস বাকৃবি এমন হবে যেখানে সবাই নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখবে, স্বপ্ন দেখবে বাকৃবিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। প্র্যাক্টিকাল খাতায় ডুবে না থেকে প্র্যাক্টিকাল প্লট তৈরী করবে বাকৃবির বুকে। গবেষণা, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও সেবা সচেতনতামূলক কাজে অধিকাংশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করবে। চাকরীর পেছনে না ঘুরে চাকরী ক্ষেত্র তৈরীর পরিকল্পনা বুনবে। এখানে আন্তর্জাতিক সেমিনার, জব ফেয়ার, বিভিন্ন কর্র্মশালা আর নির্দিষ্ট সময়ে কনভোকেশনের আয়োজন হবে যেমনটা হওয়া উচিত একটি আদর্শ বিশ^বিদ্যালয়ে।

বৃষ্টি বণিক
কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, ৩য় বর্ষ
কৃষি ও কৃষি গবেষণাকে প্রাধান্য দিয়ে ১২৬০ একর জমিতে গড়ে উঠেছে আমার প্রাণের ক্যাম্পাস বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে হৃদয়ের অন্তস্তলের স্বপ্ন বাস্তবায়ন `করতে চাই`কে `করেছি` বলতে পারবে, শিক্ষকের সাহায্য ব্যাতীত নিজের ফলিত স্বপ্নকে চিন্তাবুদ্ধি দিয়ে বাস্তবায়ন করবে, নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে দাঁড় করানো যাবে এমনটাই চাই আমার প্রানের ক্যাম্পাসে। চা,কফির চুমুকে গল্পের ছলে ভাবনাগুলোকে আলোচনার বিষয় করার জন্য হলেও ক্যাফেটেরিয়ার আগমন জাগুক সবার মনে। গন্তব্যে শেষ না হওয়া মরিচীকা না হয়ে আমার ক্যাম্পাস প্র্যাকটিকালময় জীবনে গন্তব্যে পৌঁছানোর সিড়ি হোক যেনো সারাবিশ্বের প্রতিটা মানুষের বুকে বাংলাদেশের ময়মনসিংহের কোলে জন্ম নেয়া "বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে" পড়ার স্বপ্ন জাগে।


আতিকুর রহমান
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ-২২০২
০১৯৫০-৬৯৪৭০২