ঢাকা, রোববার ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

Live

সুন্দরবনকে না ছুঁয়েই উপভোগ করা যাবে তার সৌন্দর্য্য

১৫:২৯, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার

সুন্দরবনকে না ছুঁয়েই উপভোগ করা যাবে তার অপরূপ সৌন্দর্য্য। আবার মন চাইলে নিঃশব্দ নৌকাতে বনের ভেতরে গিয়েও প্রকৃতির অপার সৃষ্টিকে মন ভরে দেখে আসতে পারবে যে কেউ। চিরায়ত বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য গরুর গাড়ি এমনকি ঘোড়ার গাড়িতে চড়েও লোকালয় থেকে দেখা যাবে পৃথিবীর বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে। এ ছাড়া পরিবেশসম্মত বৈচিত্র্যময় আরো নানা আয়োজন থাকবে এখানে। 

এমন চিন্তাধারা মাথায় রেখেই সাতক্ষীরার সুন্দরবনসংলগ্ন মুন্সিগঞ্জের প্রতিবেশ পর্যটন কেন্দ্র আকাশনীলার পর এবার ‘আকাশনীহা’ নামের একটি ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়েছে বাগেরহাটের শরণখোলায়। সুন্দরবন উপকূলের মানুষের দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের সেই স্বপ্ন এবং তাদের প্রাণের দাবির রূপান্তর ঘটাতে চলেছেন আকাশনীলার স্বপ্নদ্রষ্টা সাতক্ষীরার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘জোয়ার’ এর কর্ণধার আব্দুর রহমান আকাশ।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ অফিসের উত্তরপারে সাউথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী বাজারসংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তাদের রেকর্ডিয় ১২ বিঘা জমি লিজ নিয়েছেন তিনি। ওই জমির ওপর গড়ে তোলা হবে এই ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারটি। গত বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তার আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ আরম্ভ করা হয়েছে। কাজের উদ্বোধন করেন সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোজাম্মেল হোসেন।

‘আকাশনীহা’র উদ্যোক্তা আবদুর রহমান আকাশ বলেন, ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারটি গড়ে তোলা হলে শরণখোলার কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাতে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটা কমে আসবে। সুন্দরবন রক্ষার সার্থে সরকারও চাচ্ছে এরকমটাই। সামনে এমন এক সময় আসছে যে, পেশার তাগিতে সুন্দরবনে আর কেউ ঢুকতে পারবে না। তখন বনের ওপর নির্ভর করে যাদের জীবন-জীবিকা চলতো তারা চরম সংকটে পড়ে যাবে। পেশা হারানো সেই জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করেই এখানে প্রতিবেশ পর্যটন কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আকাশনীহা’ বাস্তবায়ন হলে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে গোটা শরণখোলা উপজেলা ইকো-ট্যুরিজম জোন হিসেবে গড়ে উঠবে। দেশি-বিদেশি প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা আসবে এখানে। এ অঞ্চলের মানুষের মন-মানুষিকতা আরো আধুনিক হবে। কাজের বিচিত্র ক্ষেত্র তৈরি হবে। এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন তরান্বিত হবে। তখন মানুষ আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনে মাছ ধরতে, কাঠ কাটতে যাবে না। 

আব্দুর রহমান আকাশ বলেন, আকাশনীহা ইকো-ট্র্যুরিজম সেন্টারে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদানই ব্যবহার হবে না। পর্যটকদের সুন্দরবন ঘুরে আসার জন্য এখানে সোলার সিস্টেমের শব্দহীন অন্তত ৫০টি নৌকা থাকবে। যারা বনের ভেতরে না গিয়ে লোকালয় থেকে বনের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য থাকেব গরুর গাড়ি এবং ঘোড়ার গাড়ি। থাকবে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে তৈরি দশতলা মানের ওয়াচ টাওয়ার। সেখান থেকে বাইনোকুলারের মাধ্যমে দূরের বনকেও কাছ থেকে দেখা যাবে। ট্যুরিজম সেন্টারের ভেতরে বিশাল অ্যাকুরিয়ামে থাকবে সমুদ্র ও সুন্দরবনের নদী-খালের নানা প্রজাতির মাছ। মিউজামে থাকবে বনের বিলুপ্ত সব প্রাণি। থাকবে বন্য ও জলজ প্রাণির প্রতিকৃতিসহ পর্যটকদের আকৃষ্ট করা নানা আয়োজন। এ ছাড়া পর্যটকদের রাত্রীযাপনের জন্য থাকবে পরিবেশবান্ধব উন্নতমানে কটেজ। আর এর সবকিছুই পরিচালনা করবে বনের ওপর নির্ভরশীল পেশাজীবী এবং এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

শরণখোলায় সুন্দরবন কেন্দ্রিক প্রতিবেশ পর্যন্ট কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি নিয়ে প্রায় ১০বছর ধরে আন্দোলন করছে ‘সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটি’ নামের একটি সংগঠন। ওই সংগঠনের সভাপতি নজুরুল ইসলাম আকন বলেন, ইকো-ট্যুরিজমের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে সভা-সেমিনার এবং সরকারের কাছে স্মারকলিপির মাধ্যমে বহুবার দাবি জানানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। একপর্যায়ে বেসরকারি উদ্যোক্তা আব্দুর রহমান আকাশ আমাদের প্রত্যাশা পুরণে এগিয়ে এসেছেন। তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে অবহেলিত শরণখোলা অনেকটা এগিয়ে যাবে। বনের পেশাজীবীদের কর্মসংস্থান হবে এখানে। সুন্দরবন সুরক্ষিত থাকবে ও বনের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে।

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সুন্দরবন রক্ষার জন্য সরকার এখন ইকো-ট্যুরিজমের ওপর বেশি জোর দিয়েছে। সরকারিভাবেও সুন্দরবন এলাকায় ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ‘আকাশনীহা বাস্তবায়ন হলে বনের ওপর থেকে চাপ অনেকটা কমে যাবে। এ ধরণের পরিবশ বান্ধব একটি পরিকল্পনার জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তা আব্দুর রহমান আকাশকে আমরা স্বাগত জানাই। এজন্য সবধরণের সগযোগিতা থাকবে আমাদের।