ঢাকা, সোমবার ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

Live

লক্ষ্মীপুরে পানে ২০০ কোটি টাকার বাণিজ্য সম্ভাবনা

১২:০১, ৫ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার

নারকেল, সুপারি ও সয়াবিনের পাশাপাশি পান চাষেও স্বাবলম্বী হচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের কৃষকখরচের তুলনায় মুনাফা বেশি হওয়ায় দিন দিন পণ্যটি আবাদে বাড়ছে আগ্রহ।অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের ফলে এবার জেলায় পানের উৎপাদন ভালো হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষক পর্যায় থেকে ব্যবসায়ী পর্যন্ত এবার জেলায় পানে অন্তত ২০০ কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরে এবার ৫০০ হেক্টর জমিতে বরজ করা হয়েছে।এর মধ্যে পানপল্লী হিসেবে খ্যাত রায়পুরের ক্যাম্পেরহাট ও হায়দরগঞ্জেই রয়েছে প্রায় ৪০০ হেক্টর বরজ।এবার পানের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা খুশি।এখানকার উৎপাদিত পান জেলাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জলায়। প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে লক্ষ্মীপুরে পান চাষে বিপ্লব ঘটবে পাশাপাশি এ অঞ্চলের পান রফতানি করে জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখা সম্ভব।

রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পানচাষী জয়নাল আবেদিন বলেন, তিনি প্রথমে ছোট এক টুকরো জমিতে বরজ করেন। শ্রমিকসহ সব খরচ মিলিয়ে এতে তার ব্যয় হয় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা।তবে মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই তিনি লাভের মুখ দেখেন। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে তিনি পানের বরজ করছেন। এতে তার আয় হচ্ছে বছরে প্রায় ১২ লাখ টাকা।

হায়দারগঞ্জ এলাকার পানচাষী দিদার এলাহী, কামরুজ্জামান ও মোতাহের বলেন, পান একটি লাভজনক ফসল। পান চাষে খরচের তুলনায় মুনাফা প্রায় দ্বিগুণ। এখানকার উৎপাদিত পানের স্বাদ ভালো। তাই জেলার বাইরে দেশজুড়ে এ পানের চাহিদা রয়েছে। প্রতি বছরই এখানকার পান জেলাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এবার পানের বাজার ভালো থাকায় এখানে প্রতি বিড়া (৮০টি) পান বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। এতে বেশ ভালো মুনাফা হচ্ছে।

তবে পানচাষীদের অভিযোগ, অনেক সময়ই বরজে পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ পাওয়া যায় না। তাছাড়া পান আবাদে তাকে প্রায়ই মূলধন সংকটে পড়তে হয়। এ অবস্থায় সহজ শর্তে সরকারি ঋণের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে তারা আরো লাভবান হতেন।

এদিকে আবদুল আলিম, মনছুর ব্যাপারীসহ বেশ কয়েকজন পানের খুচরা বিক্রেতা জানান, সারা বছরই বাজারে পানের চাহিদা থাকে। ফলে পান বিক্রি করে কৃষকদের পাশাপাশি তাদেরও ভালো মুনাফা হয়।

কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, পান চাষে তেমন কোনো কষ্ট নেই। বর্ষা আসার আগেই বরজে পানের লতা রোপণ করতে হয়। সময়মতো আগাছা দমনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে লতা রোপণের পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বিক্রি উপযোগী পান পাতা পাওয়া যায়।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কিশোর কুমার মজুমদার বলেন, এবার উৎপাদিত পান থেকে জেলায় প্রায় ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে। এতে কৃষকরা প্রচুর মুনাফা অর্জন করবেন। তিনি আরো বলেন, পান চাষে কৃষকদের কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তবে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আনা গেলে পানচাষীরা আরো ভালো করতেন।