ঢাকা, শনিবার ০৬ জুন ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

Live

রোজার আগে চিনি-ডালের দাম আরও বাড়ল

১৯:২৯, ২৪ এপ্রিল ২০২০ শুক্রবার

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে দাম বেড়ে যাওয়া মশুর ডালের দাম রোজার আগে আবার বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে চিনির দাম। এর সঙ্গে আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে অ্যাংকর, ছোলা ও মুগ ডাল। রোজায় চাহিদা বেড়ে যাওয়া আদা, রসুন, সয়াবিন তেলার দাম আগেই বেড়েছিল।

হঠাৎ করে চিনি ও মশুর ডালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহকারীরা চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে কমেছে সরবরাহ। মশুর ডালের ক্ষেত্রে একই ঘটনা।

 

করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে রোজার আগে ব্যবসায়ীদের পণ্যের দাম বাড়ানোকে অমানবিক বলছেন ক্রেতারা। তারা বলছেন, মানুষ আতঙ্কে থাকলেও মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা একের পর এক পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এমন অমানবিক কাজ করলেও এই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়। গত সপ্তাহে ৭৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মোটা দানার মশুর ডালের কেজি ১০০ টাকা ছুঁয়েছে। ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মাঝারি দানার মশুর ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ১১৫ টাকা।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবেও সপ্তাহের ব্যবধানে চিনি ও মশুর ডালের দাম বেড়েছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, খুচরা বাজারে এখন চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

মশুর ডালের বিষয়ে টিসিবি বলছে, এক সপ্তাহ আগে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মোটা দানার মশুর ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। মাঝারি দানার মশুর ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ১০০ থেকে ১১৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা।

 

রামপুরার ব্যবসায়ী তারেক বলেন, তেল, চিনি, ডালের বড় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সিটি গ্রুপ অন্যতম। করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে এই গ্রুপ তেল, চিনি, ডালের দাম বাড়িয়েছিল। অন্য সরবরাহকারীরাও দাম বাড়িয়েছে। তাহলে আমরা খুচরা ব্যবসায়ীরা কীভাবে কম দামে বিক্রি করব?

তিনি বলেন, আমাদের ধারণা ছিল রোজায় অন্তত্য চিনির দাম আর বাড়বে না। কিন্তু আমাদের সেই ধারণাও মিথ্য হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে গেছে। এই দাম বাড়ার প্রবণতা অনেক দিন ধরেই চলছে। কিন্তু কেউ কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় তা থামছে না।

রামপুরা থেকে রোজার পণ্য কেনা আলামিন বলেন, রোজার আগেই তো দেখছি সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে যে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে, তাদের মানুষ ভাবতেও কষ্ট হয়। অথচ তারাই সরকার থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোনো খবর পাই না।

রিকশাচালক মালেক বলেন, ভাই আমরা খুব কষ্টে আছি। একদিকে আয় নেই। অন্যদিকে সবকিছুর দাম বাড়তি। আমরা রিকশা নিয়ে বের হলে মাঝেমধ্যে পুলিশ দাবড়ানি দেয়। কিন্তু যারা একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ায় তাদের কেউ কিছু বলে না। আয় করতে না পারলে আমরা কীভাবে খাব, কেউ সেই চিন্তা করে না। সবাই তেলা মাথায় তেল দেয়ার জন্য ব্যস্ত।

এদিকে রোজার কেনাকাটা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাংকর, ছোলা ও মুগ ডালের দাম বেড়ে যায়। সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে এই পণ্য দুটির দাম বাড়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। আগের মতো অ্যাংকর ডাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি, ছোলা ৮০ থেকে ৯০, মুগ ডাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এমএএস/জেডএ/পিআর