ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

Live

যেভাবে শাজাহানপুরের কৃষক খুঁজে পেলো সচ্ছলতার ঠিকানা

১১:২৯, ১০ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

দুয়ারে কড়ানাড়ছে শীত। শীতের বাহারি সবজি চাষের এখনই সময়। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় ‘চারা গ্রাম’ খ্যাত শাহনগর গ্রামসহ আশেপাশের এলাকাগুলো সবজির চারা বেচাকেনায় সরগরম হয়ে উঠেছে।

 

চারার নগর খ্যাত এই গ্রামে কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু হয় বাইসাইকেল, রিকশা-ভ্যান, অটোরিকশার আনাগোনা। দুর-দূরান্ত থেকে সবজি চারা কিনতে আসা মানুষের পাদচারণায় প্রতিদিন মুখরিত হচ্ছে এই নার্সারিপল্লী। শাজাহানপুরে উৎপাদিত সুস্থ সবল হাইব্রিড মরিচ ও সবজি চারা ছড়িয়ে পড়ছে বগুড়া সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল, নাটোর, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, মঠবাড়িয়াসহ অন্তত ২৫ জেলায়।

 

শাহনগরের নার্সারি মালিকরা মূলত উচ্চ ফলনশীল জাতের হাইব্রিড মরিচের চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে থাকেন। এর পাশাপাশি এখন উন্নত জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুনসহ নানা ধরণের সবজির চারা উৎপাদন ও বিপণন চলছে। সুস্থ সবল চারায় বর্ণিল নার্সারির বেড গুলো। আকস্মিক বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে ঢেকে দেওয়া হয়েছে পলিথিন দিয়ে।

শাহনগরে সবজি চারা উৎপাদনের পথিকৃৎ আঁখি বীজ ভাণ্ডার এন্ড নার্সারির সত্ত্বাধিকারী আমজাদ হোসেন জানান, মাঠ ফসলের চেয়ে সবজি চারা উৎপাদন লাভজনক হওয়ায় দীর্ঘ কয়েক বছরে শাহনগর ও এর আশপাশ এলাকায় ছোটবড় দুই শতাধিক নার্সারি গড়ে উঠেছে। শুধু শাজাহানপুরেই নারী শ্রমিকসহ তিন সহস্রাধিক কৃষি শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। গাইবান্ধা, রংপুর এলাকার শ্রমিকরাও নার্সারিতে কাজ করছেন। শুধু চারা উৎপাদন নয়, উন্নতমানের এসব চারায় মরিচ ও সবজি উৎপাদন করে শাজাহানপুরের শতাধিক কৃষক খুঁজে পেয়েছেন সচ্ছলতার ঠিকানা।

এ কারণে প্রতিবছর বাড়ছে নার্সারির সংখ্যা। পুরাতন নার্সারির মালিকরাও নড়েচড়ে বসেছেন। কয়েকগুণ বাড়িয়েছেন তাদের নার্সারির আকার।

শাজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম জানিয়েছেন, চারা ও সবজি উৎপাদন করে শাজাহানপুরের সবজি নার্সারি মালিকরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি কৃষক ও কৃষি শ্রমিকের উন্নয়নে অবদান রাখছেন।