ঢাকা, মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

Live

মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প: অফিসের পেছনেই যাবে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা

২১:০১, ২৫ অক্টোবর ২০১৯ শুক্রবার

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পে অফিসের পেছনেই যাচ্ছে ১৮ কোটি ৫১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এর অর্থে অফিস ভবন ও সংশ্লিষ্ট কাঠামো নির্মাণ করা হবে।

এ ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, একটি জেলা মৎস্য অফিস, জেলা মৎস্য অফিস সংশ্লিষ্ট প্রকল্প অফিস, রেস্ট হাউস এবং ১৫টি উপজেলা মৎস্য অফিসের জন্য এ টাকা খরচ ধরা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৫০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি তহবিলের অর্থে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় এটি বাস্তবায়ন করবে মৎস্য অধিদফতর।

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন’ শীর্ষক এ প্রকল্পটি নিয়ে আগামী ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় প্রকল্পটি গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে যাচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন।

 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, পিইসি সভার আগে যদি ডিভিশন চিফ পর্যায়ে একটি পর্যালোচনা সভা করার বিধান থাকত তাহলে এ রকম অনেক কিছু প্রশ্নেরই সমাধান হতো। প্রকল্প প্রস্তাব আরও অনেক বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যেত।

এখন একজন ডেস্ক অফিসারের মাথা থেকে যেসব বিষয় বেরিয়ে আসে সেগুলো পিইসি সভায় আলোচনা হয়। তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পে এসব খাতের ব্যয় নিয়ে বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হবে।

পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। তিনি আরও বলেন, আগামীতে পিইসি সভার আগে আর একটি পর্যালোচনা সভা বিধান চালু হওয়া উচিত।

২২ অক্টোবর জারি করা পিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, আলোচ্য প্রকল্পটির সমজাতীয় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্য চাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (তৃতীয় পর্যায়)’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।

এটি ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হয়। একই এলাকায় তিন পর্যায়ে পরপর তিনটি সমজাতীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের পর আবার একই জাতীয় প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি গ্রহণের যৌক্তিকতা সভায় আলোচনা করা যেতে পারে।

এছাড়া মৎস্যসম্পদের এবং সংশ্লিষ্ট সুফলভোগীদের কি পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে তা প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা অবহিত করতে পারে। সেই সঙ্গে আগের প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে যেসব অবকাঠামো, ক্রিক সংস্কার ও জলাশয় উন্নয়ন করা হয়েছে সেগুলোর বর্তমান অবস্থা সভায় আলোচনা হতে পারে।

কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, সমজাতীয় চলমান অন্যান্য প্রকল্পের প্রধান প্রধান আইটেমের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রকল্পের তুলনামূলক ব্যয় বিবরণে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ যেমন- প্রদর্শনী খামার স্থাপন, হ্যাচারি বিল্ডিং মেরামত ও পুনর্গঠন, ক্রিক সংস্কার, অফিস ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণ, বাঁধ ও ড্রেন নির্মাণ ইত্যাদি বিষয়গুলোর তুলনামূলক ব্যয় উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) উল্লেখ নেই।

এছাড়া প্রকল্পের সারসংক্ষেপে কিছু কিছু আইটেমের ব্যয় দু’বার ধরা হয়েছে। যেমন পাহারাদার, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ, অফিস সরঞ্জাম ইত্যাদির ব্যয় ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে যৌক্তিকতা মন্ত্রণালয় বা সংস্থা সভাকে অবহিত করতে পারে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশের পূর্ব, পূর্ব-দক্ষিণ দিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অবস্থিত। বর্তমানে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা নিয়ে এ অঞ্চলটি গঠিত।

পার্বত্য অঞ্চলে জনগোষ্ঠীর তীব্র পানির সংকট ও যোগাযোগের অপ্রতুলতার কারণে উন্নয়নের ছোঁয়া জনগণের দোর গোড়ায় পৌঁছায়নি।

তাই এ অঞ্চলের মৎস্য চাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প ২০০০-২০০৫, ২০০৬-২০১০ এবং ২০১২-২০১৮ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়। সমতলে অধিক মৎস্য উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম মৎস্য অধিদফতরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু পার্বত্য জেলায় অন্য প্রকল্পের তেমন কার্যক্রম নেই।

এসব এলাকায় রয়েছে প্রচুর কিরি, ছড়া ও ঘোনা। এগুলোর একপাশে বাঁধ দিয়ে অল্প খরচে ক্রিক তৈরি করে সহজে মাছ চাষ করা যায়।

এর আগে অন্য প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে যেসব ক্রিক নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলোতে মাছ চাষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। ফলে নতুন নতুন ক্রিক তৈরির মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদনের এ ধারা অব্যাহত রাখা জরুরি। এ বিবেচনায় প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।