ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০ | ৭ কার্তিক ১৪২৭

Live

মাছের বিস্কুট ও চানাচুর তৈরি করলেন শেকৃবির গবেষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১:২৫, ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

সুস্বাদু ও সকল পুষ্টিগুণ ঠিক রেখে পাঙ্গাশ ও সিলভার কার্প মাছ দিয়ে বিস্কুট ও চানাচুর তৈরি করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশিং এ্যান্ড পোস্ট হার্ভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক মোঃ মাসুদ রানা ও তার গবেষক দল। যা দেশে প্রথম। প্রাণিজ আমিষ সমৃদ্ধ এই পণ্যগুলো ছোট ছেলেমেয়েদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং গর্ভবতী নারীদের পুষ্টির সঙ্কুলানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে জানান গবেষক দলের প্রধান মাসুদ রানা। যা একই সঙ্গে মানুষের দেহের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন ও মিনারেল সরবারহ করবে। তার এই সাফল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ অভিনন্দন জানিয়েছেন।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ফিশারিজ, একোয়াকালচার এ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. কাজী আহসান হাবীব বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন। প্রতিবছর লক্ষ্যমাত্রা হতে অতিরিক্ত মাছ উৎপাদিত হচ্ছে। অন্যদিকে পাঙ্গাশ ও সিলভার কার্প মাছ দুটির উৎপাদনের হার বেশি কিন্তু ভোক্তাদের চাহিদা ও বাজার দর দিন দিন কমতে থাকায় চাষীরা পাঙ্গাশ ও সিলভার কার্প মাছ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। মাসুদের এ আবিষ্কার ফলে চাষীর আবারও এ মাছ চাষে আগ্রহী হবে। যা দেশে অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখবে। উৎপাদিত পণ্য রফতানি করেও প্রচুর অর্থ আয় করা সম্ভব। তাছাড়া প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি পূরণে এ আবিষ্কার আগামী দিনের পাঙ্গাশ ও সিলভার কার্প মাছ উৎপাদন ব্যবস্থায় সাফল্য বয়ে নিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মাসুদ রানা বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ের ফিশারিজ, একোয়াকালচার এ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের আর্থিক সহায়তায় কয়েক মাস ধরে গবেষণা করছি। এ গবেষণার হাত ধরেই বাংলাদেশে এ প্রথম পাঙ্গাশ এবং সিলভার কার্প মাছের সব পুষ্টিগুণ ঠিক রেখে কম মূল্যের মাছগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ বিস্কুট ও চানাচুর তৈরি করেছি। পাঙ্গাশ মাছের বিস্কুট এবং চানাচুরে নাম রাখা হয়েছে সাউ ফিস বিস্কুট-১ এবং সাউ ফিস চানাচুর-১। সিলভার কার্প মাছের বিস্কুট এবং চানাচুরের নাম রাখা হয়েছে সাউ ফিস বিস্কুট-২ এবং সাউ ফিস চানাচুর-২।

উদ্ভাবিত খাদ্য দুটি মোড়কজাত পণ্য হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন সম্ভব। ফলে চাষী পর্যায়ে পাঙ্গাশ ও সিলভার কার্প মাছ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়বে। গবেষণায় দেখা গেছে মাছের বিস্কুট ও চানাচুরে ৪৫ ভাগ আমিষ, ২৫ ভাগ চর্বি, ২৩ ভাগ শর্করা, ১২ ভাগ মিনারেল এবং ১১ ভাগ ফাইবার বিদ্যামান। খুব দ্রুতই পাঙ্গাশ এবং সিলভার কার্প মাছের পণ্য দুটি বাজারে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান গবেষক মোঃ মাসুদ রানা।

কৃষি কাগজ/এস এম