ঢাকা, সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

Live

ভারতে ডাল আমদানি কমতে পারে

১১:৫৪, ৯ আগস্ট ২০১৯ শুক্রবার

চলতি বছর ভারতের ডাল আমদানি প্রত্যাশার চেয়ে কমতে পারে। সরকারি বিধিনিষেধের কারণে এ বছর খাদ্যশস্যটির আমদানি প্রায় ১০ লাখ টন কমে যাওয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর ফলে সরকারের ন্যূনতম সহায়তা মূল্য (এমএসপি) পেয়ে উৎপাদন করা কৃষকরা উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের (বিএস) রিসার্চ ব্যুরো।

ভারতে ছোলা, মটর, মুগ, মসুরসহ বিভিন্ন ডালের বিপুল পরিমাণ চাহিদা রয়েছে। বার্ষিক অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রায় ২ কোটি ৪০ থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ টন। এ চাহিদা মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানি করতে হয় ভারতকে। বাড়তি আবাদ ও অনুকূল আবহাওয়ার ফলে কয়েক বছর ধরেই দেশটিতে ডালের উৎপাদন বাড়ছে। কিন্তু এ বছর দেরিতে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় খাদ্যশস্যটির উৎপাদন গত বছরের তুলনায় কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশটিতে খাদ্যশস্যটির উৎপাদন ২২ লাখ ২০ হাজার টন কমে যেতে পারে। এ সময় দেশটিতে ২ কোটি ৩২ লাখ ২০ হাজার টন ডাল উৎপাদনের প্রাক্কলন করা হয়েছে। দেশটিতে বেশির ভাগ খাদ্যশস্যের দাম এমএসপির তুলনায় কম হওয়ায় উৎপাদন আরো কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছর খরিফ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ৯৪ হাজার হেক্টর ডাল চাষ করা হয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময় চাষাবাদ হয়েছিলে ২৭ লাখ ৯০ হেক্টরে।

বিএস রিসার্চ ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১৪-১৫ বছরে বৈশ্বিক বাজার থেকে ২৭৮ কোটি ৬১ লাখ ডলারের ডাল আমদানি করেছিল ভারত। এ সময় দেশটিতে খাদ্যশস্যটির আমদানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার টন। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৫-১৬ বছরে ৩৯০ কোটি ২২ লাখ ডলারের ডাল আমদানি করা হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশটির আমদানির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার টন। এ পরিমাণ ডাল আমদানিতে ভারতের সে সময় ব্যয় হয়েছিল ৪২৪ কোটি ৪১ লাখ ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৯০ কোটি ৮৩ লাখ ডলার ব্যয়ে ২ কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার টন ডাল আমদানি করা হয়েছে। আর ২০১৮-১৯ বছরে ২ কোটি ৩২ লাখ ২০ হাজার ডাল আমদানি করতে চায় ভারত। যেখানে দেশটির ব্যয় হবে ১১৪ কোটি ৮ লাখ ডলার।

একদিকে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে আমদানি কমে যাওয়ার পূর্বাভাসে সরকারি গুদামে মজুদ করা ৩৯ লাখ টন ডাল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে, যা ন্যূনতম সহায়তা মূল্যের চেয়ে দামে কম থাকবে।

আমদানি কমে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ মজুদও এবার কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০১৭-১৮ বছরে ৩ কোটি ৬ লাখ টন ডাল মজুদ ছিল দেশটিতে। সেখানে ২০১৮-১৯ বছরে ২ কোটি ৪৬ লাখে চলে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।