ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

Live

ভারতীয় পশুর বিকল্প মিয়ানমারের গরু!

১১:২৯, ৮ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার

এতদিন ভারতীয় আর স্থানীয় পশুদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে চট্টগ্রামের বাজারের বড় একটা অংশ দখলে রাখত কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও সিরাজগঞ্জ এলাকার গরু। ভারতের গরু গত কয়েকবছর ধরে চট্টগ্রামের বাজারে আসে না বললেই চলে। কিন্তু এবার দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা গরুর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে মিয়ানমার থেকে আসা গরু।

টেকনাফ স্থলবন্দরের হিসাব অনুযায়ী, সারাবছরই মিয়ানমার থেকে কম বেশি গরু বাংলাদেশে আসে। তবে কোরবানি সামনে রেখে গত জুলাই মাস এবং ২ ও ৩ আগস্ট মিয়ানমার থেকে মোট ১২ হাজার ৭২৩টি গরু বাংলাদেশে এসেছে। আবহাওয়া বৈরী হওয়ায় গত ৩ আগস্টের পর গরু আসা বন্ধ আছে। মিয়ানমারের মংডু এলাকায় গরু ভর্তি জাহাজ অপেক্ষা করছে। আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে আজ বৃহস্পতিবার থেকে নতুন করে গরু আসা শুরু হবে বলে বন্দর কর্মকর্তারা জানান, কোরবানির আগে আরও ৪ হাজার গরু আসতে পারে।

মিয়ানমার থেকে গরুর আমদানিকারক মোহাম্মদ ইসহাক আমাদের সময়কে বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা এসব গরুর আকার মাঝারি। দাম ৬০ থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে। সারাবছর ঘাস ও বনজ খাবার খেয়ে গরুগুলোর শরীরে চর্বির পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম। মধ্যবিত্তের সামর্থ্যরে মধ্যে থাকায় এসব গরুর চাহিদা বাজারে খুব বেশি। তিনি বলেন, শুরুর দিকে কক্সবাজারের লোকজন এ ধরনের গরু কিনেছে। এখন সব গরুই চলে আসছে চট্টগ্রাম ও আশপাশের বাজারে।

গতকাল বুধবার নগরীর রাহাত্তারপুল নুরনগর হাউজিং বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তিন ধরনের গরুর উপস্থিতি। যথানিয়মে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এবং সিরাজগঞ্জ থেকে এসেছে বড় আকারের গরু। চট্টগ্রামের স্থানীয় বিভিন্ন খামারে লালন করা গরুও এসেছে বাজারে। এগুলোর আকার কুষ্টিয়ার গরুর চেয়ে ছোট। এর বাইরে মিয়ানমার থেকে আসা গরুর চালান দেখা গেল। গরুগুলো দেখতে লালচে রঙের।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আমাদের সময়কে বলেন, রেড চিটাগাং নামে চট্টগ্রামের গরুর একটি আদি গোত্র ছিল। এখন চট্টগ্রাম অঞ্চলেই এটা বিলুপ্তির পথে। তবে মিয়ানমার থেকে আনা গরুগুলো ওই জাতেরই অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের গরুর চাহিদা এ অঞ্চলে খুব বেশি। তিনি বলেন, এসব গরুকে বেশি খাবার দিতে হয় না। ওষুধ-পথ্যও খাওয়াতে হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে ওঠে। মাংসের স্বাদও তুলনামূলকভাবে ভালো।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, শেষদিকে গরুর দাম কমবে বলে যে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল নেই। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা গরুর গড় দাম পড়ছে দেড় লাখ টাকা। তবে বড় আকারের গরু ২ লাখ টাকার ওপরে হরহামেশাই বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থায় নিম্ন মধ্যবিত্ত ঝুঁকছেন মিয়ানমারের গরুর দিকে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সফিকুল মন্নান সিদ্দিকী আমাদের সময়কে বলেন, এবার চট্টগ্রাম শহরে সম্ভাব্য কোরবানির পশুর সংখ্যা এক লাখ ৬০ হাজার। ছাগলের সংখ্যা ধরা হয়েছে ৪০ হাজার।

কৃষি কাগজ/এস এম