ঢাকা, রোববার ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

Live

বিপদসীমার উপরে পানি, ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষক

২০:১১, ২ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার

ফারাক্কা বাধ খুলে দেওয়ায় পাবনায় পদ্মার পানি বিপদসীমার  উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার সদর, ঈশ্বরদী ও সুজানগর উপজেলার নদী তীরের গ্রামগুলোতে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে ।

এছাড়াও পনিবন্দি হয়ে দিন কাটাচ্ছেন চরাঞ্চলের প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ। উজান থেকে নেমে আসা পানি ও প্রবল বর্ষণে আগামী কয়েকদিনে আরও বিস্তৃর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হাওয়ার সম্ভাবনা।
 
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গত এক সপ্তাহে ধারাবাহিক ভাবে বাড়ছিল পাবনায় পদ্মার পানির উচ্চতা। গত সোমবার সকাল ১০ টা নাগাদ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি অতিক্রম করে বিপদসীমা। মঙ্গলবার দুপুরে পানি আরও বেড়ে বিপদসীমার সাত সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ক্রমাগত পানি বৃদ্ধিতে তলিয়ে যায় সদর, ঈশ্বরদী ও সুজানগর উপজেলার বিস্তৃর্ণ জমির ফসল। পদ্মাপাড়ের অনেক গ্রামের বসত বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক শতাধিক পরিবার। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো খাদ্য সঙ্কটে বিপাকে পড়েছেন তারা।

পাবনার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, আকস্মিক বন্যায় সদর উপজেলার দোগাছি, ভাঁড়ারা, চরতারাপুর ও হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ৬৯২ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১ হাজার পরিবারের মানুষ। মঙ্গলবার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত হওয়ায় প্লাবিত হয়েছে আরও বেশ কিছু এলাকা।উপজেলা প্রশাসন বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 

সরেজমিনে চরকোমরপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হঠাৎ বন্যায় তলিয়ে গেছে ধান, মাস কলাই ও সবজি ক্ষেত। কৃষকরা কাঁচা ধান কেটে নিয়ে আসছেন। পানি ঢুকেছে বসতবাড়িতে। রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় দূর-দূরান্তের স্বজনদের বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসছেন। 

কৃষকরা জানান, বন্যায় সমস্ত ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এখন গো খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাঁচা ধানই কেটে আনছেন তারা।

ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া, পাকশী ও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নে চরের গাজর, শিম, করলা, মুলাসহ আগাম শীতের সবজির ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। পদ্মার এসব চরের উর্বর জমিতে সবজি ভাল উৎপাদন হয়। এছাড়া এখানে বন্যায় ফসলি জমি প্লাবিত না হওয়ায় বর্গাচাষীরা এসব জমিতে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ করেন। আকস্মিক বন্যায় সমস্ত ফসল নষ্ট হওয়ায় এখন সব হারিয়ে দিশেহারা চরকুড়ুলিয়া, চরদাদাপুর, শান্তিনগর, মালপাড়া, উদিপাড়াসহ ২০ গ্রামের চাষীরা। পানিবন্দি দিন কাটাচ্ছে অন্তত দুই শতাধিক পরিবারের মানুষ।

লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান শরীফ জানান, লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নে প্রায় ১৫ হাজার একর জমির সবজি ও আখ ক্ষেত পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে। যার অধিকাংশই আগাম শীতের সবজি। বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় এসব ফসলে কৃষকের বিনিয়োগও বেশি থাকে। টাকার অংকে কমপক্ষে কয়েকশ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে।
 
জেলা প্রশসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের পর পদ্মায় এমন পানি বৃদ্ধি হয়নি। আগাম প্রস্তুতি না থাকায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণও হয়েছে বেশি। আগামী আরও কয়েকদিন পদ্মার পানি প্রতিদিন ১০ সেন্টিমিটার করে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ।
 
তিনি জানান, আমরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা ভিত্তিক টিম করেছি। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। কৃষকের ক্ষতির বিষয়টি কৃষিবিভাগ মনিটর করছে। তাদের সহযোগিতার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। তিন উপজেলার বন্যা দূর্গত মানুষের পাশে জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক ভাবে কাজ করছেন। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। তবে ক্ষয়-ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান এখনো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, কেননা পানি বাড়ছে এবং প্রতিনিয়ত ক্ষতির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।