ঢাকা, রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

Live

ফলন বাড়নো গেলে কমতে পারে এক লাখ হেক্টর আলু চাষের জমি

১৫:০৩, ১৫ অক্টোবর ২০১৯ মঙ্গলবার

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) গবেষণা সেলের যুগ্মপরিচালক ও প্রধান সমন্বয়কারী ড. মো. রেজাউল করিম জানান, দেশে বর্তমানে এক কোটি টনেরও বেশি আলু উৎপাদন হচ্ছে। তবে যে হারে আলু চাষের জমি বেড়েছে সে হারে হেক্টর প্রতি গড় ফলন বাড়েনি। দেশে হেক্টর প্রতি আলু গড় ফলন প্রায় ২১ মেট্রিক টন যা বিশে^র আলু উৎপাদনকারী অনেক দেশের চেয়ে কম। কম ফলনের জন্য উন্নত জাত ও মানসম্মত বীজ আলুর অপ্রতুলতাকেই দায়ী করা হয়।


আলুর ক্ষেত্রে এককভাবে কেবল মানসম্মত বীজের ব্যবহারে শতকরা ২৫ ভাগ ফলন বাড়ানো সম্ভব। মানসম্মত বীজ, উচ্চফলনশীল জাত ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজে হেক্টর প্রতি ফলন ৩০ মেট্রিক টনে উন্নীত করা যায়। কৃষকের মাঠে শতভাগ মানসম্মত বীজআলুর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ৪ লাখ হেক্টর জমিতে এক কোটিরও বেশি আলু উৎপাদন করা যাবে। এতে অবশিষ্ট এক লাখ হেক্টর জমি রবি মৌসুমে ডাল, তেল ও অন্যান্য সবজি উৎপাদনের জন্য ছাড় (রিলিজ) দেয়া সম্ভব হবে।


বাংলাদেশে ১৯৫৭ সালে হেক্টর প্রতি ৫ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন হারে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে মোট এক লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপন্ন হয়। ১৯৬২-৬৩ সাল থেকে দেশে ক্রমান্বয়ে আলু চাষের জমি ও ফলন বাড়তে থাকে এবং তখন থেকে উৎকৃষ্ট মানের বীজ আমদানি শুরু হয়। আলু চাষিরা উৎকৃষ্টমানের অধিক ফলনশীল বীজের ব্যবহারে ফলন বেশি পেতে থাকে। এতে আলু ফসল লাভজনক প্রমাণিত হওয়ায় ফসলটির জমির পরিমাণ বাড়তে থাকে। এসময় প্রায় ৫৮ হাজার হেক্টর জমিতে ৩ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়। প্রকৃতপক্ষে বিএডিসি ষাট এর দশকে বিদেশ (হল্যান্ড) হতে বীজআলু আমদানি শুরু করে এবং কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়। এসময় আলু অনিয়ন্ত্রিত ফসল হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বিএডিসি হল্যান্ড থেকে সরাসরি বীজআলু আমদানি এবং নিজস্ব বিপনন ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করে।


বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বার্টাড চুক্তির মাধ্যমে রংপুর, বগুড়া, রাজশাহী, চাঁদপুর ও গাজীপুরের কাশিমপুরে বীজআলু সংরক্ষণের জন্য ৫০০ মেট্রিক টন করে মোট ২৫০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার হিমাগার স্থাপন করা হয়। এসময় থেকে হিমাগারগুলোকে কেন্দ্র করে চুক্তিবদ্ধ চাষি জোন গড়ে তোলা হয়। বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ চাষিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উন্নত কলাকৌশল ব্যবহার করে উন্নত বীজআলু উৎপাদনে সক্ষম হয়। সত্তরের দশকে এভাবেই উচ্চফলনশীল জাতের বীজআলু উৎপাদন করে ক্রমান্বয়ে স্থানীয় জাতের আলু প্রতিস্থাপন করা হয়। একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ প্রক্রিয়ায় বিএডিসি অগ্রণী ভূমিকা রাখে।


বর্তমানে টিস্যুকালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে মানসম্মত বীজআলু উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে গত ৩ বছর যাবত বিএডিসি’র হল্যান্ড থেকে বীজআলু আমদানি শুণ্যের কোঠায় পৌঁছেছে। এতে বীজআলু আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মূদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হচ্ছে। অপরদিকে বীজের গুণমান উন্নত হওয়ায় দেশে আলুর গড় ফলন ১৫ মেট্রিক টন থেকে ২১ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে এবং হেক্টর প্রতি আরও ফলন বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে বিএডিসি টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে চাহিদা মতো খাওয়া, রপ্তানি ও শিল্পে ব্যবহার উপযোগী যে কোনো আলুবীজ উৎপাদন এবং সরবরাহ করতে সক্ষম।