ঢাকা, বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০ | ৬ কার্তিক ১৪২৭

Live

পবিত্র রমজানে প্রিয়শপ ডটকমের বাটপারির অকল্পনীয় নমুনা!

১৫:৪৫, ২৮ এপ্রিল ২০২০ মঙ্গলবার

অনলাইন শপিংজগতে priyoshop.com একটি প্লাটফর্ম, যার নাম অনেকেই শুনে থাকবেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রীর সিনিয়র ইনফরমেশন অফিসার/পিআরও কিছুদিন আগে তাদের একটা অফারে যুক্ত হয়েছিলেন। লটারি সিস্টেমের সেই অফারে নামমাত্রমূল্যে ল্যাপটপ, মোবাইল, মোটরসাইকেল ইত্যাদি অফার করা হয়েছিল। দৈবচয়নের মাধ্যমে কিছু নির্বাচিত গ্রাহককে কাঙ্ক্ষিত পণ্য সরবরাহের শর্ত থাকলেও, যারা জিতবেন না তাদের টাকাগুলো সরাসরি রিফান্ডের ব্যবস্থা ছিল না। তাদের ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কেনার শর্তে প্রিয়শপ ডটকমে গ্রাহকদের একাউন্টেই কোটিকোটি টাকা আটকে দেয়া হয়েছিল। এভাবে তারা লক্ষলক্ষ মানুষের কোটিকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। জনাবন শাহ আলমেরও কয়েক হাজার টাকা সেই ওয়ালেটে আটকা পড়েছিল।

নগদক্যাশ রিফান্ডের সুযোগ না থাকায় তাদের "রমজান অফার" থেকে ১৭ এপ্রিল তিনি কাঁচাতরকারিসহ সয়াবিন ও সরিষার তেল, বেসন, চিনি, মুড়ি ইত্যাদি মিলে প্রায় ২২০০ টাকায় ১৭টি পণ্যের অর্ডার করেছিলেন, যা তার ওয়ালেট থেকে নগদ কেটেও নেয়া হয়। কিন্তু ৭/৮ দিনেও পণ্যপ্রাপ্তি কিংবা তাদের কোনোই সাড়া না পেয়ে তিনি বারবার ফোন দিয়ে তাদের তাড়া দিতে থাকেন। ফলে ২৩ ও ২৪ এপ্রিল তিনদফায় ২ ব্যক্তির মাধ্যমে তারা শসা, টমেটো, কাঁচামরিচ, সুজি ও লবণ এ ৫টি পণ্য বাসায় দিয়ে যায়, যা করোনা-পরিস্থিতিতে অত্যন্ত স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ এবং হয়রানিমূলকও ছিল। অথচ চালডাল, আজকের ডিল, দারাজসহ অন্যান্য শপিংমাধ্যমগুলো একই অর্ডারের সকল পণ্য একসাথেই হোম ডেলিভারি করে থাকে।

কিন্তু দেখা গেল,  priyoshop.com বিভিন্ন চটকদার অফারের মাধ্যমে লটারিপদ্ধতিতে কোটিকোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও হোম ডেলিভারির বেলায় পণ্যসরবরাহ না করে প্রতারণাই করে থাকে, যা্র বাস্তব জনাব শাহ আলম। তারা পাঁচটি পণ্য পৌঁছে দেয়ার পর তাদের কাস্টমার কেয়ারের #09636000 নাম্বারটি শুধু বন্ধই রাখেনি, ওয়েবসাইট থেকেও তা ডিলিট করে দিয়েছে। এমনকি পণ্যের অর্ডার-কনফার্মকারী #01552146189 নাম্বারটিও তারা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে, যা সম্পূর্ণ অসাধুতা ও অসদুদ্দেশ্যমূলক। পণ্যসরবরাহে সমস্যা বা অপারগতা থাকলে তারা তাদের ওয়েবসাইট, ইমেইল, মোবাইলের এসএমএস কিংবা টেলিফোনেও গ্রাহককে জানিয়ে দিয়ে অবশ্যই মিথ্যা আশা থেকে মুক্তি দিতে এবং টাকাও রিফান্ড করতে পারতো। কিন্তু তা না করে কাস্টমার কেয়ারের যোগাযোগনম্বর বন্ধ রেখে আশা-নিরাশার দোলাচালেফেলে করোনা-পরিস্থিতির বন্দীদশা এবং গ্রাহকের অর্থসঙ্কটের সময় তার পবিত্র রমজানের প্রস্তুতিটাই ভন্ডুল করে দিয়েছে।

রোজার আগের দিন ২৪ তারিখ পর্যন্ত তিনি তাদের সাথে শতবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। অবশেষে তাদের  প্রতারণা বুঝতে পেরে তিনি তারাবির রাতেই আবার বাজারে গিয়ে রমজানের পন্য কিনতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ তারা তাদের য়েবসাইটে এখনো রমজানের অফারসহ পণ্যের অর্ডার এবং অর্থগ্রহণপদ্ধতি চালু রেখে গ্রাহকদের ঠকিয়েই যাচ্ছে এবং সম্পূর্ণরূপে পুরোপুরি পলাতক রয়েছেন। তাই সকলের সতর্ক হওয়া জরুরি এবং এই শপিংসাইটকে বর্জন করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সরকারি সংশ্লিষ্ট বিভাগসহ ভোক্তা অধিদফতরের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন জনাব শাহ আলম।

কৃষি কাগজ/এস এম