ঢাকা, সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

Live

দেশের জেলেরা ইলিশ ধরা বন্ধ করলেও বিদেশিদের মাছ চুরি বন্ধের দাবি

১১:০৭, ৯ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার

‘মোগো ডর বিদেশি জাইল্লারা, হেরা ধরবে মোরা বাড়ি বইয়া থাকমু।’ ইলিশের ডিমবতী ‘মা ইলিশ’ ডিম ছাড়তে যাওয়ার আগেই বিদেশি জাইল্লার জালে ধরা পড়বে। এভাবেই মনের চাপা কষ্ট আশংকা প্রকাশ করলেন ট্রলার মালিক বাদুরতলা গ্রামের আনসার খাঁ। ইলিশ ধরার সমুদ্রগামী চারটি ট্রলারের মালিক তিনি। আজ বুধবার (৯ অক্টোবর) থেকেই সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকার প্রস্তুতি নিয়েছেন। দাবি করেছে যে কোন অনুপ্রবেশ বন্ধ করার।

সরকার ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ঘোষনা করেছে। এ সময় বাংলাদেশের জল সীমানায় ইলিশ আহরণ,পরিবহন,বিক্রয় বা মজুত নিষিদ্ধ। উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত হলে দেশের সাগর ও নদীতে ইলিশের মজুত বিগত বছরের মত মজুত বৃদ্ধি পাবে।

ইতিমধ্যেই দেশের প্রতিটি জেলেপল্লী,ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পর্যায়ে বরফ উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ না ধরার বিষয় সচেতন ও সতর্ক করা হয়েছে।

আনসার খাসহ অনেক জেলের আশংকা দেশের আইন মান্য করে নিজস্ব জলসীমানায় আহরণে বিরত থাকলেও বিদেশি কিছু জেলে আধুনিক সরঞ্জাম সজ্জিত হয়ে রাতের আঁধারে বাংলাদেশের জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে মাছ ধরতে পারে। ইতিপূর্বে এমন ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

ইলিশ মৌসুমে বিদেশি জেলেরা দল বেধে আমাদের ঘেরাও করে, আমরা তাদের ভয়ে ওই এলাকা ছেড়ে জাল তুলে ফিরে আসি বলেন গহরপুর গ্রামের জেলে জাকির হোসেন। তিনি বলেন এ ব্যাপারে আমরা বার বার মানববন্ধন ও সরকারকে স্মারকলিপি দিয়েছি।

প্রতিবেশী দেশের জেলেদের থেকে ইলিশের প্রজননকালে নিরাপত্তার কোনো উদ্দোগ নেই বলে জানালেন বরগুনা জেলা মৎস্যজীবি ট্রলার মালিক সমিতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ও বরগুনা জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মন্নান মাঝি।

গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জুলাই মাসে ৬৫ দিন, অক্টোবর মাসে ২২দিন ইলিশ ধরা ও ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা আহরণে আমাদের দেশে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকাকালে প্রতিবেশী দেশে অভিন্ন নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে প্রতিবেশীরা প্রকাশ্যে বা অগোচরে মাছ ধরে নিয়ে যায়। তিনি জেলেদের এ সমস্যাটি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অবহিত করেছেন। দাবী করেছেন নৌবাহিনীর টহল বৃদ্ধি করার।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হুমায়ুন কবির মঙ্গলবার জানান, জেলে ও মৎস্য পেশার সাথে সম্পৃক্ত অনেকে বাংলাদেশ জলসীমা থেকে মাছ চুরির আভিযোগ করে থাকেন। আমরা উর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি।

এ ব্যাপারে নৌবাহিনীর মোংলা বেজ-এর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এমএ হালিম টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে মঙ্গলবার দুপুরে জানান, বুধবার (আজ) থেকে শুরু হওয়া ইলিশের প্রজননজনিত মাছ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে কোনো ট্রলার সাগরে মাছ ধরতে পারবে না। তাছাড়া প্রতিবেশী কোন দেশের ট্রলার বা জেলের অনুপ্রবেশ করার সুযোগ নাই। বিএন কপতাক্ষসহ দুটি জাহাজ ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার যথেষ্ট সচেতন। বিদেশি কেউ মাছ ধরে নিতে না পারে সেজন্য নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড সজাগ আছে।