ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০২ এপ্রিল ২০২০ | ১৮ চৈত্র ১৪২৬

Live

দুগ্ধ খামারীদের নীতিমালা শীর্ষক জাতীয় সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১:৪২, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার

দেশের দুগ্ধ শিল্প বিকাশে সরকারী-বেসরকারী খাত থেকে ঋণ সুবিধাসহ সম্প্রসারণ সেবা ও ন্যায্য মূল্যে বাজারে দুধ বিক্রি নিশ্চিতের দাবী জানিয়েছে প্রান্তিক দুগ্ধ খামারীরা। তাদের দাবী, দেশে পর্যাপ্ত চাহিদা থাকা সত্বেও যথাযথ নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট পরিসেবার অভাবে এই শিল্পটির বৃদ্ধি ক্রমাগত ব্যাহত হচ্ছে।

আজ বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে অক্সফ্যাম ও বাংলাদেশ ডেইরী ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (বিডিডিএফ) আয়োজিত এক জাতীয় সভায় তারা একথা বলেন। এসময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জনাব আশরাফ আলী খান খসরু, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আফতাব উদ্দিন সরকার, মাননীয় সংসদ সদস্য, নীলফামারী-১, বিডিডিএফের সভাপতি এডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, জনাব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক, এলডিডিপি, জনাব ডা. আবদুল জব্বার শিকদার, মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ড. নাথুরাম সরকার, মহাপরিচালক, বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটসহ এই শিল্পের সাথে জড়িত সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।

সভায় মূল নিবন্ধ পাঠ করেন বিডিডিএফের প্রচার সম্পাদক ও অক্সফ্যামের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. মুতাসীম বিল্লাহ। তিনি বলেন, দেশে তরল দুধের উৎপাদন বিগত ১০ বছরে বেড়েছে চার গুণেরও বেশী। বাংলাদেশে বর্তমানে বানিজ্যিক খামারের সংখ্যা প্রায় এক লক্ষ এবং দুধের বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ৯৯ লক্ষ মেট্রিক টন। বর্তমান ধারায় দুধের উৎপাদন অব্যাহত থাকলে দেশ ২০২৫ সালের মধ্যে দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে যা এই বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে দেশের বানিজ্য ঘাটতি কমাতে সক্ষম হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অক্সফ্যামের ইকোনোমিক জাষ্টিস ও রেসিলিয়েন্স প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. খালিদ হোসাইন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রান্তিক নারী খামারীরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসময় কুড়িগ্রামের রৌমারীর প্রান্তিক খামারী আমেনা বেগম বলেন, প্রান্তিক জনপদে পর্যাপ্ত চিলিং প্লান্ট না থাকায় প্রায় উৎপাদিত দুধ নষ্ট হচ্ছে। তিনি সরকারের কাছে এই শিল্পের সাথে জড়িতদের জন্য চিলিং প্লান্ট স্থাপনসহ সরকারী-বেসরকারী ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা প্রদানের দাবী জানান।

বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের অন্যতম একটি সম্ভাবনাময় খাত হচ্ছে দেশীয় ডেইরী শিল্প। বর্তমানে ডেইরী খাত একটি বাণিজ্যিকভাবে সফল শিল্প হিসেবে গড়ে উঠেছে। দেশে বর্তমানে এক লক্ষেরও বেশি নিবন্ধিত খামারী রয়েছেন যার প্রায় অর্ধেকই উচ্চশিক্ষিত যুবকদের উদ্যোগে পরিচালিত। একইসাথে গবাদী পশুর মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় সাত গুণ। দেশে দুধের মোট চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এখন দেশীয় উদ্যোক্তারা সরবরাহ করছেন। এমন একটি সম্ভাবনাময় শিল্পখাত কেবল অসম শুল্ক নীতির কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হলে এর সুদুরপ্রসারী প্রভাব পড়বে কয়েক লক্ষ মানুষ যারা এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত যা বর্তমান সরকারের উন্নয়নমুখী নীতির পরিপহ্নি।

অনুষ্ঠানে ডেইরী শিল্পের সাথে জড়িত উদ্যোক্তারা বলেন, আমাদের দেশে আমদানীকৃত গুড়া দুধের সাথে দেশে উৎপাদিত দুধের অসম প্রতিযোগীতা বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে বাল্ক আকারে আমদানী করা গুড়া দুধের উপর শুল্ক বৃদ্ধি করার উপরের সরকারের প্রতি জোর দাবী জানানো হয়।

উন্নয়নের এই ধারাকে টেকসই ও মজবুত করতে সরকারের পাশাপাশি ডেইরী শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যেমন- দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান, গবাদিপ্রাণির কৃত্রিম প্রজজনকারী প্রতিষ্ঠান, প্রাণিখাদ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান, দুগ্ধ খামারী, বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক, ব্যবসায়ী সংগঠন, গণমাধ্যম ও বেসরকারী সংস্থাগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরী। ‘‘বাংলাদেশ ডেইরী ডেভেলপমেন্ট ফোরাম’’ বাংলাদেশের ডেইরী শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে নিয়ে এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘অক্সফ্যাম’ বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের সময় থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার মধ্য দিয়ে বিগত চার দশকে বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে। অক্সফ্যাম বাংলাদেশের ডেইরী শিল্পের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। বর্তমানে সংস্থাটি বাংলাদেশের চরাঞ্চলের দূর্যোগ পীড়িত খামারীদের নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের উত্তোরাঞ্চলের দারিদ্র্যপীড়িত ৫টি জেলার (যেমন- গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, জামালপুর) ক্ষুদ্র দুগ্ধ খামারীদের ঋণ সুবিধা, নবায়নযোগ্য জ্বালানী, বাজারে অভিগমন ও সম্প্রসারণ সেবা নিশ্চিকরণের মাধ্যমে প্রায় ৩০০০ খামারীর জীবন মান উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। উক্ত প্রকল্পে খামারীদের বিভিন্ন ধরনের সফলতা, প্রতিবন্ধকতা ও শিক্ষণসমূহ সরকারী বেসরকারী স্টেকহোল্ডারদের ডেইরী শিল্পের উন্নয়নে কাজ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

কৃষি কাগজ/এস এম