ঢাকা, মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬

Live

দুগ্ধও মাংস উৎপাদনের জন্য ব্যাকওয়ার্ড ও ফরোয়ার্ড লিংকেজ জরুরি

১০:৪৮, ১৮ জানুয়ারি ২০২০ শনিবার

দুগ্ধও মাংস উৎপাদনের ঃ তরুন উদ্যোক্তাদের বলবো ডেইরি ফার্ম , ফ্যাটেনিং ফার্ম করার চেয়ে যদি আপনি ভাল গাভী তৈরী করে খামারিদের হাতে দিতে পারেন, ভাল মানের সাইলেজ/টিএমআর করে খামারিদের হাতে তুলে দিতে পারেন আপনি খুব সহজেই লাভবান হতে পারবেন।

পরিকল্পনা কিছুটা দীর্ঘমেয়াদী কিন্তু লাভ নিশ্চিত। শহর অঞ্চলের খামার শুধু না, বাংলাদেশের সকল জায়গার খামারগুলোতে অধিক দুধ দেয়া সম্পন গাভীর অত্যান্ত চাহিদা। ২০ লিটার দুধ দেয়া সম্পন্ন একটি গাভী ২.৫০ লাখ থেকে ৩ লাখে বিক্রি হয়। ভাল কৌলিক গুনাগুন সম্পন্ন সিমেন ব্যবহার করে একটি গাভী থেকে অধিক দুধ দেয়া সম্পন্ন গাভী তৈরী করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে কিছু জানতে হবে কি ধরনের গাভীকে কি সিমেন ব্যবহার করবেন। এসোসিয়েশন এই ব্যাপারে আপনাকে সহযোগিতা করবে৷

বাংলাদেশে সবচেয়ে অধিক দুধ দেয়া সম্পন্ন গাভী ছিল বিদেশী ফ্রিজিয়ান এবং দেশী গাভীর ক্রস ব্রিড যেখানে ফ্রিজিয়ানের ব্লাড লাইন ছিল ৫০% এবং একটি গাভী থেকে দুধ পাওয়া যেত ৪০ থেকে ৪৫ লিটার। বাংলাদেশে আর্থসামাজিক অবস্থায় কম বিনিয়োগে এমন অধিক দুধ দেয়া সম্পন্ন একটি গাভী খামারির জন্য অত্যান্ত লাভবান।

সঠিক ব্রিডিং পদ্ধতি না মানার কারনে, ভাল মানের সিমেন না পাওয়া সহ বিভিন্ন কারনে বাংলাদেশে আস্তে আস্তে অধিক দুধ দেয়া সম্পন্ন গাভী হারিয়ে গেছে। যার ফলে বিদেশী গুড়া দুধ আমদানীকারকরা আমাদের দেশের দুধের বাজার দখল করেছে। আমরা এখন ধীরে ধীরে এর থেকে বেড়িয়ে আসার চেস্টা করছি।

একটি দেশী গাভীকে বিদেশী ভাল মানের সিমেন ব্যবহার করে আপনি যদি তথ্য রেকর্ড সম্বলিত একটি দুগ্ধ গাভী তৈরী করতে পারেন যা বিক্রয় করে খুব সহজেই আপনি লাভবান হতে পারবেন। নিজের মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন এসেছে কেউ কি করছেনা এভাবে? আমি বলবো, ১০০০ জনে ১ জনও করছেনা সঠিক নিয়ম মেনে। হাতে গোনা কয়েকটা বড় ফার্ম মেইন্টেন করছেন। আর যে কারনে সে সব ফার্মের দুধের গাভী বিক্রয় হয় অধিক উচ্চদামে। বিষয়গুলো আপনি জানতে পারলে আপনি নিজেও ভাল মানের বকনা, ষাড় ও গাভী তৈরী করতে পারবেন।

গরুর খাদ্য কর্ন সাইলেজ ফডার হিসাবে বিশ্বে সমাদৃত। বাংলাদেশে বর্তমান বাজারে কর্ন সাইলেজের যা চাহিদা আছে তার ১% সাপ্লাই নেই। যারা কর্ন সাইলেজ উতপাদন করছে প্রোডাকশন আসার আগেই তাদের আগাম বুকিং দেয়া থাকে সারা বছরের জন্য। এখানেও বেশ ভাল ব্যবসা করার সুযোগ আছে।

এত ভাল ব্যবসা করার সুযোগ থাকতে তরুন উদ্যোক্তাদের অনেকেই ইউটিউব দেখে দুগ্ধ খামার, ফ্যাটেনিং খামার করার দিকে উতসাহ বেশী। হ্যা, অবশ্যই আমাদের দুগ্ধ/ফ্যাটেনিং খামার আরো আরো দরকার, কিন্তু আপনাকে ভাবতে হবে এই খামার ব্যবসা আপনার পারিপার্শ্বিক , আর্থিক ও সমাজ ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জসপূর্ন কিনা। অর্থাৎ এলাকায় দুধের দাম ৩৫ টাকা, বাইরে থেকে অহরহ ইন্ডিয়ান মাংসের গরু ঢুকে পড়ছে, সেখানে কেন আপনাকে দুগ্ধ ও ফ্যাটেনিং খামারই করতে হবে, বিষয়টা আসলে এরকমই।

দুগ্ধও মাংস উৎপাদনের শিল্পে ঝুকিমুক্ত ব্যাকওয়ার্ ও ফরোওয়ার্ড লিংকেজ ব্যবসার অনেক ভাল সুযোগ আছে। তরুন উদ্যোক্তাদের বলবো আপনারা এদিকে মনোনিবেশ করুন যেখানে অপার সম্ভাবনা আছে।

খামার মালিক সমিতি “বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশন” তরুন উদ্যোক্তাদের খামার বিষয়ক এবং খামারের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবসার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকে কোন প্রকার ফিস ছাড়াই।