ঢাকা, রোববার ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

Live

দস্তা সারের নামে কোটি কোটি টাকার ভেজাল সার আমদানি

১৩:৩৬, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার

জিঙ্ক সালফেট বা দস্তা নেই বললেই চলে, তবুও নাম তার দস্তা সার। বাংলাদেশের বাজারে গণচীন থেকে আমদানি ও বাজারজাত করা ১২টি কোম্পানির রকমারি মোড়কের কথিত সার পরীক্ষা করে এমনই বিস্ময়কর তথ্য মিলেছে। অথচ বছরে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ভেজাল সার আমদানির মাধ্যমে প্রায় হাজার কোটি টাকার মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় করা হচ্ছে।

কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে এতে শুধু দেশের অর্থেরই অপচয় হচ্ছেনা। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মাটি ও মানুষের স্বাস্থ্য। বাংলাদেশ অর্গানিক প্রোডাক্টস মেনুফ্যাক্সারার্স এ্যাসোসিয়েশন(বোপমা) সম্প্রতি কৃষিবিদদের মাধ্যমে দেশের বাজারে পাওয়া ১২ টি কোম্পানির সারের নমুনা সংগ্রহ করে মানসম্মত ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে। পরীক্ষার ফলাফলে সারের নমুনার একটিতেও কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মাত্রার( শতকরা ৩৬ ভাগ) জিংকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানালেন বোপমা সভাপতি মু. আব্দুস সালাম।

আমদানি ও বাজারজাতকারী এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একমাত্র মিমপেক্স এগ্রোকেমিক্যালস লিমিটেড মিমজিংক নামের এক কেজি ওজনের দেশীয় জিংক সালফেট মনো বাজারজাত করে থাকে। তবে এই সারে সরকার নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম ৩২.৫০ ভাগ জিংক রয়েছে। বাকি ১১টি প্রতিষ্ঠান গণচীন থেকে আমাদনীর মাধ্যমে জিংক সালফেট মনো বা জিংক সার এক কেজি ওজনের প্যাকেটে বাজারজাত করে আসছে। এর একটিতেও সরকার নির্ধারিত মাত্রার জিংক পাওয়া যায়নি। এ

সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জিএমই এগ্রো লিমিটেডের জিএমই জিংক নামের প্যাকেটের সারে ২৭ দশমিক ৯২ ভাগ, ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের আমেরিকান জিংক নামের সারে ২৬ দশমিক ০২ ভাগ জিংক, এমিন্যান্স কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এমি জিংক নামের সারে ২৫ দশমিক ৩৯ ভাগ জিংক, ইনতেফা’র টোপাজ সারে ২৪ দশমিক ৭৫ ভাগ জিংক, কৃষিবিদ ফার্ম লিমিটেডের কৃষিবিদ মনো জিংক নামের সারে ১৯.২০ ভাগ জিংক, করবেল ইন্টারন্যশনাল লিমিটেডের জিংক প্লাসে ১৭.১৩ভাগ, বিসমিল্লাহ করপোরেশন লিমিটেডের ডলার জিংক নামের সারে মাত্র ০৩দশমিক ১৭ ভাগ জিংক, কোহিনুর এগ্রো কেমিক্যালস এর এগ্রো গোল্ডে ০৩ ভাগ জিংক, চায়না এগ্রো কেয়ার সিস্টেমের আমেরিকান জিংক সারে ০৩ ভাগ জিংক, ইউনি ক্রপ প্রোটেকশন লিমিটেডের টপ জিংক সারে ০৩ ভাগ ও রোহান এগ্রো মার্কেটিং এর আমেরিকান জিংকে মাত্র ০৩ ভাগ জিংকের অস্তিত্ব মিলেছে।


এবিষয়ে মৃত্তিকা উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক বলেন, মাটির ১৭টি মাইক্রোনিউন্টের মধ্যে জিংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর অভাবে মাটির স্বাস্থ্য ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি ফসল ও মানব দেহের ওপরও বিরুপ প্রভাব পড়ে থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং এর সার ব্যবস্থাপনা বিভাগ সার আমদানীর সার্টিফিকেট দেয় এবং বাজারের সারের মান ঠিক আছে কিনা তা তদারকি করে ব্যবস্থা নেয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং এর উপপরিচালক (সার ব্যবস্থাপনা উইং) কৃষিবিদ ড. সৈয়দ মো. রফিকুল ইসলাম বললেন, যথাযথ আইন-বিধি ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভেজাল সার আমদানি ও বাজারজাতকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী

কৃষি কাগজ/এস এম

সূত্রঃ আমাদের অর্থনীতি