ঢাকা, মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

Live

তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকা উচিত নয়

১৫:২৩, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ বুধবার

প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী কোমলমতি শিশুদের পরীক্ষা ও বইয়ের ভার কমাতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, বাচ্চাদের পরীক্ষা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে। এ ভার থেকে বাচ্চাদের মুক্ত করতে হবে। পিইসি পরীক্ষার পক্ষে-বিপক্ষে দুই ধরনের মত রয়েছে। এটা নিয়ে একটা রিপোর্ট তৈরি করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের বেশি বেশি খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। ক্লাস ওয়ান থেকে থ্রি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকা উচিত নয়।

গতকালের একনেক বৈঠকে ৪ হাজার ৬১১ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত নয়টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪ হাজার ৩৬৬ কোটি ১২ লাখ এবং সংস্থার (সিলেট সিটি করপোরেশন) নিজস্ব অর্থায়ন ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ‘ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ’ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫৪টির ২ হাজার ৯৭৫টি কক্ষ নতুনভাবে নির্মাণ করা হবে। ১৭৭টি বিদ্যালয়ের ১ হাজার ১৬৭টি কক্ষের অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ এবং উত্তরায় তিনটি ও পূর্বাচলে ১১টিসহ মোট ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নতুনভাবে স্থাপন করা হবে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে শতভাগ ভর্তি ও শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটানো নিশ্চিতকরণ, শিক্ষায় প্রবেশাধিকার, উচ্চশিক্ষা এবং পরিপূর্ণ উন্নতির ধারাবাহিকতার মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য হ্রাস করা, প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থীর জন্য শিশুবান্ধব শিক্ষাগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিতকরণসহ শিক্ষার মান বৃদ্ধির নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে ব্যয় কমিয়ে আবারো সংশোধন করা হলো ‘চামড়া শিল্পনগর’ প্রকল্প। এটিও গতকাল অনুমোদন দিয়েছে একনেক। সংশোধনের ফলে এ প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ৭৮ থেকে কমে ১ হাজার ১৫ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি শুরু হয়। নতুনভাবে জুন ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এমএ মান্নান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে প্রকল্পের কাজ চলমান। ২০২০ সালের জুনের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রকল্পের সময় আর বাড়ানো যাবে না। হাজারীবাগে কিছু লোক চামড়া দিয়ে বাই প্রডাক্ট তৈরি করত। সাভারেরও এমন ব্যবস্থা করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে এখানে অনেকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

একনেকে গতকাল অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নেয়া ‘নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার এবং বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ’ প্রকল্প এবং ‘মোংলা বন্দরের আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্প; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ‘ফরিদপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ’ প্রকল্প; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসির জন্য অফিসার্স মেস ও বিওকিউ নির্মাণ’ প্রকল্প। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ‘দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান’ প্রকল্প এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের ‘চামড়া শিল্পনগরী, ঢাকা (চতুর্থ সংশোধিত)’ প্রকল্প; এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘হাওড় এলাকার নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন’ প্রকল্প।