ঢাকা, সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

Live

ড্রেনে মশার লার্ভাভুক মাছ ছেড়ে ডেংগুর প্রকোপ কমানো সম্ভব

মো. আরিফুল ইসলাম

১৬:১০, ৬ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার

দেশের বর্তমান ডেংগু পরিস্থিতি মোকাবেলায় এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এডিস মশার বিস্তার রোধ করতে হলে সবার আগে বংশবিস্তার রোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে জৈবিক পদ্ধতিতে মশা নিধনের জন্য একটি ভাল মাধ্যম হতে পারে মসকিউটো ফিশ, গাপ্পি, খলিশা, কৈ এর মত লার্ভাভুক জাতীয় বিভিন্ন ধরনের মাছ। গতকাল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে আলোচনা সভা ও ক্যাম্পাসের ড্রেনে মসকিউটো ফিশ (মশাভূক মাছ) অবমুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে অনুষদের পাশের ড্রেনে প্রায় ৭-৮ হাজার মসকিউটো ফিশ (মশাভূক মাছ) অবমুক্তকরণের মাধ্যমে ওই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. লুৎফুল হাসান। পুরো ক্যাম্পাসের ড্রেনেই ওই মাছ অবমুক্ত করা হবে। এছাড়া আগামী বৃহস্পতিবার ময়মসনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটুর নেতৃত্বে শহরের ড্রেনে ওই মাছ ছাড়া হবে।

https://www.krishikagoj.com/media/PhotoGallery/2018March/Agri-Varsity-Mymensingh-Dendue-Controll-by-Fish-News-Pic-2-1908061010.jpg

মশাভুক মাছ ছাড়ার মাধ্যমে মশার ডিম নিধন সম্ভব বলে জানিয়েছে বাকৃবির একদল গবেষক। গবেষক দলের প্রধান ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ জানান, মসকিউটো ফিশ প্রায় ১০ বছর আগে আমেরিকা থেকে দেশে অ্যাকুরিয়াম ফিশ হিসেবে আসে। কয়েক বছর পূর্বে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ড্রেনে মশা দমনে মসকিউটো ফিশ ও গাপ্পি মাছ ছাড়া হয়। চট্টগ্রামের বিভিন্ন ড্রেনের ও নর্দমার নোংরা পানিতে আমরা ‘মশাভূক মাছ’ মাছের সন্ধান পেয়েছি যারা মশার ডিম প্রচুর পরিমাণে খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। এ মাছ ড্রেনের ও নর্দমার নোংরা পানিতে স্বাভাবিকভাবেই বেঁচে থাকতে পারে। তাই নর্দমার পানিতে মশার লার্ভা নিধনে মসকিউটো ফিশ সবচেয়ে বেশি উপযোগী।

মশা নিধন কর্মসূচিতে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিন আহম্মেদের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মে. জসিমউদ্দিন খান, প্রোক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল হক সহ বিশ্বদ্যিালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এসময় ভিসি অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, দেশের ডেংগুর এই মারাত্মক পরিস্থিতিতে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে মশা নিধনের নতুন নতুন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা শিখতে হবে। তেমনি একটি জৈবিক প্রযুক্তি হলো মশা নিধনের বায়োলজিক্যাল পদ্ধতি অর্থাৎ মাছ দিয়ে মশার লার্ভাকে ভক্ষণ করানো। এছাড়াও ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার রাখা, টবে পানি জমতে না দেওয়া, ধূমায়িত করা এবং জৈবিক পদ্ধতি সব কিছুর সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে এই দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব।

মো. আরিফুল ইসলাম
বাকৃবি সংবাদদাতা, ময়মনসিংহ