ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

Live

`ট্রান্সফর্মিং রাইস ব্রিডিং একটি ভোক্তাবান্ধব ধান প্রজনন কৌশল'

সিদ্দীকুর রহমান

২১:০২, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

২৪ অক্টোবর ২০১৯, ঢাকা: আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) এর সহযোগীতায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট(ব্রি) ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ‘ট্রান্সফর্মিং রাইস ব্রিডিং’ (টিআরবি-ব্রি) নামক প্রকল্পের আওতায় আধুনিক, উদ্ভাবনী এবং ভোক্তাবান্ধব ধান প্রজনন কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে ধানের জাত উদ্ভাবনে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কৃষি সচিব মোঃ নাসিরুজ্জামান। গত বৃহস্পতিবার ইরি এবং ব্রি এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব জনাব মোঃ নাসিরুজ্জামান ‘ট্রান্সফর্মিং রাইস ব্রিডিং’ (টিআরবি-ব্রি) প্রকল্পকে একটি উদ্ভাবনীমূলক, আধুনিক এবং ভোক্তাবান্ধব ধানের প্রজনন কৌশল হিসেবে অভিহিত করেন।

এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট(ব্রি) এর ধানের প্রজনন প্রোগ্রামের উন্নয়ন সাধন করা। যেমন- দ্রæত বংশ বৃদ্ধি (আরজিএ) কৌশলের মাধ্যমে জাত উৎপাদন প্রক্রিয়া ত¦রান্বিত করা, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ পদ্ধতির অটোমেশনের মাধ্যমে ধানের প্রজনন কৌশলে যুগপোযোগী পরিবর্তন আনা, হাই থ্রুপুট মলিকুলার মার্কার এবং সেরা প্রজনন লাইনের দ্রæত পুনর্ব্যবহার করে প্রজনন ধারনার সাথে সম্পর্কিত কৌশলগুলোর সর্বাধুনিক উন্নয়ন সাধন।

টিআরবি-ইরি-ব্রি যৌথ সহযোগিতামূলক প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ নাসিরুজ্জামান, মাননীয় সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি)-বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. হুমনাথ ভান্ডারী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। ড. মোঃ শাহজাহান কবীর, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট(ব্রি) এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. কবীর ইকরামুল হক। এছাড়াও ইরির ইরিগেটেড ক্লাস্টার লিড ড. জশোয়া কব, বিএমজিএফ (বিল এন্ড মিলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন) সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ড. গ্যারি অ্যাটলিন, ব্রির প্ল্যান্ট ব্রিডিং ডিভিশন এর প্রধান ড. কে এম ইফতেখার-উ-দৌলা এবং ইরি-বাংলাদেশ এর রাইস ব্রিডার ড. মো. রফিকুল ইসলাম প্রমূখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

গত চার বছরে ‘ট্রান্সফর্মিং রাইস ব্রিডিং’ (টিআরবি-ব্রি) প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলো হচ্ছে-
* এই প্রকল্পের আওতায় ৬০,৫৯৪ টি ফিক্সড রাইস ব্রিডিং লাইন তৈরি করা হয়েছে এবং আরও ১০ লক্ষ ব্রিডিং লাইন

আগামী ৪ বছরের মধ্যে তৈরি করা হবে।

আমন ও বোরো মৌসুমের উপযোগী স্বল্পমেয়াদি জাত উদ্ভাবন করা হবে যেগুলোর ফলন হবে ৮ থেকে ১০ টন/হে.।

* এছাড়া বøাষ্ট, বিএলবি, ফলস স্মার্ট, বিপিএইচ ইত্যাদি প্রধান প্রধান রোগ ও পোকামাকড় সহনশীল জাত, ঘাতসহনশীল জাত (যেমন: লবণাক্ততা, খরা, জলমগ্নতা, বন্যা সহিষ্ণু) জাত উদ্ভাবনের কাজ এই প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

* এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১,০৯৯ টি এলএসটি ব্রিডিং লাইন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীবিক্ষণের কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

* লবণাক্ততা সহনশীল ২০০০ জার্মাপ্লাজম ও বিড্রিং লাইন সনাক্ত ও বাছাই করা হয়েছে।

* ঠান্ডা ও করা সহনশীল ১২০০ জার্মাপ্লাজম ও বিড্রিং লাইন সনাক্ত ও বাছাই করা হয়েছে।

* জলমগ্নতা ও বন্যা সহনশীল জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ৯০০ জার্মাপ্লাজম ও বিড্রিং লাইন বাছাই করা হয়েছে।

* বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনের জন্য ৪২০০০ ব্রিডিং লাইন বাছাই করা হয়েছে।

* প্রিমিয়াম কোয়ালিটি জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ১০৬০০টি ব্রিডিং লাইন বাছাই করা হয়েছে।

* ৮৩৫টি প্যারেন্ট ম্যাটেরিয়াল এবং ১৫৬১০টি এলএসটি লাইনের কিউটিএল ফিঙ্গার প্রিন্টিং সম্পন্ন করা হয়েছে।

* ডব্র উদ্ভাবিত নতুন জাতগুলোর মাঠ পর্যায়ে দ্রæত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২১টি নতুন উদ্ভাবিত জাতের ১০০০টি পরীক্ষামূলক অভিযোজন ট্রায়াল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্পন্ন করা হয়েছে।


প্রধান অতিথি কৃষি সচিব মোঃ নাসিরুজ্জামান বলেন, ধানের প্রজনন পদ্ধতির উন্নয়ন একটি উৎকৃষ্ট পদ্ধতি যা পছন্দসই বৈশিষ্ট্যের সাথে ধানের জাত উন্নয়নের জন্য প্রচলিত প্রজনন কৌশলকে স্থানান্তরিত করে আধুনিক উদ্ভাবনী পদ্ধতিকে উৎসাহিত করে। এই প্রকল্পের অনন্য একটি দিক ছিলো মানবসম্পদ উন্নয়ন, যা ব্রি এবং এর অন্যান্য দেশিয় অংশীদার সংস্থার গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও টেকসই করেছে। প্রকৃতপক্ষে এটি দরিদ্র কৃষকদের জীবন ও জীবিকার মানোন্নোয়নে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, সরকার শীঘ্্রই ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইসের জাত অবমুক্ত করবে।

সভাপতির বক্তব্যে ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেন, ব্রি এখ পর্যন্ত ২৪টি ঘাত সহনশীল জাতসহ ১০০টি বিভিন্ন ধরনের উফশী ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ধানের ফলনের স্তরভিত্তিক সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে যেতে হলে আমাদের কৌশলভিত্তিক প্রজনন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। তাই, ধানে ফলনের সীমাবদ্ধতা হ্রাসের জন্য ধানের প্রজনন আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। টিআরবি-এর সফল প্রয়োগের মাধ্যমে লাখ লাখ প্রজনন লাইনের বিকাশের মাধ্যমে একটি অবিস্মরণীয় সাফল্য লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। আশা করা যায়, ধানের জেনেটিক উন্নয়ন ঘটানোর মাধ্যমে আমাদের জরুরী প্রয়োজন মেটাতে পারে এমন আরো বেশি লবণাক্ততা, খরা এবং বন্যা সহণশীল ধানের জাত উন্নয়নে অবদান রাখবে ব্রি।

বিল এন্ড মিলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ড. গ্যারি অ্যাটলিন সাফল্যজনকভাবে টিআরবি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্রি ও ইরি কে অভিনন্দন জানান। তিনি এদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বিল এন্ড মিলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনর সহায়তা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কৃষি কাগজ/এস এম