ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০২ এপ্রিল ২০২০ | ১৮ চৈত্র ১৪২৬

Live

চাঙ্গা হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার গম রফতানি

১৯:৫১, ১৩ মার্চ ২০২০ শুক্রবার

প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে বেশকিছু দিন মন্দায় ছিল অস্ট্রেলিয়ার গম খাত। উৎপাদন কমার সঙ্গে সঙ্গে কমছিল রফতানিও। তবে চলতি বছরের শুরুতেই দেশটির গম রফতানি খাতে চাঙ্গা ভাব ফিরেছে। গত জানুয়ারিতে দেশটি থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকের বেশি বেড়েছে। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটস।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১৩ লাখ টন গম রফতানি হয়েছে, আগের মাসের (২০১৯ সালের ডিসেম্বর) তুলনায় যা ৪১ শতাংশ বেশি। এছাড়া ২০১৯ সালের একই মাসের তুলনায় যা ৫২ শতাংশ বেশি।

জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে রফতানি হওয়া গমের শীর্ষ গন্তব্য ছিল ফিলিপাইন। ফিলিপাইনের বাজারে এ সময় দেশটি থেকে মোট ৩ লাখ ১৮ হাজার ১১৬ টন গম রফতানি হয়েছে। এ সময় অস্ট্রেলিয়া থেকে রফতানি হওয়া গমের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শীর্ষ গন্তব্য ছিল যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া ও চীন।

জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিলিপাইনে যে পরিমাণ গম রফতানি হয়েছে, তার অধিকাংশ ছিল ফিড হুইট। গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিক থেকে শুরু করে নভেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত ফিলিপাইনে পণ্যটির রফতানিতে অস্ট্রেলিয়া একটি বাড়তি সুযোগ লাভ করে। অন্যান্য দেশের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় উৎপাদিত গম আমদানির ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ আমদানি শুল্ক থেকে অব্যাহতি লাভ করেন ফিলিপাইনের ব্যবসায়ীরা। এই শুল্ক সুবিধার সময় ফিলিপাইনের বাজারে অস্ট্রেলিয়ার ফিড হুইটের চাহিদা বেড়ে যায়, যা পণ্যটির রফতানি বাড়াতে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

এছাড়া জানুয়ারিতে চীনে দেশটি থেকে মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৫২৪ টন গম রফতানি হয়েছে, যা ছিল অস্ট্রেলিয়া থেকে রফতানি হওয়া গমের তৃতীয় শীর্ষ বাজার। অস্ট্রেলিয়া থেকে চীনের গম আমদানি বৃদ্ধিকে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। গত বছরের জানুয়ারিতে যব আমদানিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনে (ডব্লিউটিও) অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে চীন। এর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। এবং শস্য আমদানি-রফতানি ব্যাহত হয়।

তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটি থেকে গম আমদানি বাড়িয়ে দেয় চীন, যা দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীনের একজন ময়দা ব্যবসায়ী বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক আরো ভালোর দিকে এগোচ্ছে। চীনে উৎপাদিত চলতি মৌসুমের নতুন গম এখনো বাজারে আসেনি। ফলে পণ্যটির মান সম্পর্কে এখনো কেউ কিছু জানে না। অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত গম নিম্নমানের হলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের গম আমদানি আরো বাড়াতে পারেন তারা।

অন্যদিকে জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়ায় গম রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ সময় দেশটি থেকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৪ টন গম আমদানি করে দ্বিতীয় শীর্ষস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, আগের মাসের তুলনায় যা ১২ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে তা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২৭ শতাংশ বেশি।