ঢাকা, রোববার ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

Live

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রুপালি ইলিশের কেজি ৫০ টাকা!

১৩:৪৩, ৩ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

বাজারে ইলিশের দাম একেবারেই কমে গেছে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শেষ মৌসুমে এসে বঙ্গোপসাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। এখানে ছোট আকৃতির ইলিশ প্রতিকেজি ৫০ টাকায় এবং বড় ১ কেজি সাইজের ইলিশ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। 

এদিকে দাম কম পেয়ে স্থানীয় মৎস্য আড়তদাররা ও দূরাগত পাইকাররা ভবিষ্যতে সরবরাহ করার লক্ষে প্রচুর ইলিশ মজুদ করতে বরফের দাম এক লাফে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ফলে এখন ইলিশের চেয়ে বরফের দাম অনেক বেশি পড়ছে বলে মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের সীতাকুণ্ড উপকূলে গত কয়েকদিন হঠাৎ প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। সাগরে মৎস্য শিকারে যাওয়া জেলেরা নৌকা ভর্তি ইলিশ নিয়ে ফিরছে উপকূলে। কিন্তু অতিরিক্ত ইলিশের কারণে স্থানীয় বাজারে কমে গেছে দাম।

সরেজমিনে গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার সবচেয়ে ইলিশ আহরণ এলাকা কুমিরা ঘাটঘর গিয়ে দেখা যায় জেলেরা সাগর থেকে প্রচুর ইলিশ শিকার করে ফিরছেন। এমন একটি নৌকাও নেই যেখানে কয়েক মণ ইলিশ আনা হয়নি। তবে মাছের মধ্যে বেশির ভাগই ছোট ও মাঝারি আকৃতির।

এছাড়া ১০ থেকে ২০ শতাংশ আছে এক কেজি বা তার চেয়েও বড় সাইজের। কুমিরা ঘাটঘর এলাকা পরিদর্শনকালে কুমিরা জেলে পাড়ার জেলে অর্জুন জলদাশ বলেন ইলিশের জোঁ চলছে এখন। এ কারণে সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে।

তিনি বলেন, এই প্রচুর মাছ ধরার খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ায় এখন দূরাগত অসংখ্য পাইকার এবং সাধারণ মানুষ ইলিশ কেনার জন্য উপজেলার ঘাটে ঘাটে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বারৈয়াঢালা, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী, সলিমপুর ইউনিয়নে অনেকগুলো জেলেপাড়া আছে।

প্রত্যেক এলাকার জেলেরা এখন প্রচুর ইলিশ পাচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সময়ে সাগরে ইলিশ ধরা পড়ছে। এ সময় ক্রেতারা জেলে নৌকার দিকে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। গতকাল সাগর পাড়ে মাছ কিনতে আসা সীতাকুণ্ডের কুমিরা সুলতানা মন্দির এলাকার বাসিন্দা অধ্যাপক কৃষ্ণ চন্দ্র দাস জানান, তিনি সাগর পাড়ে গিয়ে দেখেন জেলেরা ইলিশ ভর্তি জাল নিয়ে সোজা উপকূলে চলে এসেছেন।

এই সময় মাছের দাম জানতে চাইলে জেলেরা বলেন, যদি ক্রেতা নিজে জাল থেকে মাছ খুলে নেয় সে ক্ষেত্রে প্রতি মন মাছ ২ হাজার টাকায় নিতে পারবে। দরদাম করলে এর চেয়ে অনেক কমেও ইলিশ বিক্রি করছিলেন জেলেরা। সব শেষে তিনি ছোট ও মাঝারি আকৃতির ইলিশ গড়ে প্রতি কেজি ৫০ টাকা হারে কিনে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোর্শেদুল আলম চৌধুরী বলেন, প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে একথা সত্যি। কিন্তু জেলেরা যে সারা বছর দাদন নিয়ে সংসার চালায় তার জেরে এই মৌসুমে দাদনদারকে নামমাত্র মূল্যে ইলিশ দিয়ে দিতে হয়। তারপর দাদনদারেরা সেই ইলিশ কয়েকগুণ বেশি দামে বাজারে বিক্রি করে লাভবান হন।

তিনি বলেন, এ কারণে প্রচুর মাছ ধরেও জেলেরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। উপকূল থেকে মাছ নিয়মিত ইলিশের ক্রেতা ভাটিয়ারী মৎস্য আড়তের সত্বাধিকারী মো. মনোয়ার হোসেন মুন্না বলেন, আমরা ঝাঁকা ঝাঁকা ইলিশ কিনে তারপর সাইজ হিসেবে বিক্রি করি। ছোট আকৃতির ইলিশ খুচরা বাজারে ২০০, মাঝারি আকৃতির ৩০০ এবং বড় আকৃতির ইলিশ ৪-৫ শ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। তবে যেসব ক্রেতা সরাসরি ঘাট থেকে কেনেন তারা অনেক কম মূল্যে মাছ কিনতে পারেন বলে জানান তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শামীম আহমেদ বলেন, গত মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড উপকূল থেকে ৫০ মেট্রিক টনের মতো ইলিশ ধরা পড়েছিল। বুধবার ধরা পড়েছে ৭০ টনের মতো। তিনি বলেন, মাছ বেশি ধরা পড়লেও জেলেরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। মধ্যসত্বভোগীরাই আসল লাভ নিয়ে যাচ্ছে। তার ওপর জেলেরা মাছ সংরক্ষণ করছে দেখে আইস ফ্যাক্টরিগুলো বরফের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে। কয়েক কেজি ওজনের বরফ তারা বিক্রি করছেন ১৭০০ টাকা। অর্থাৎ ইলিশের চেয়ে বরফের দামই বেশি! ফলে জেলেরা কিংবা পাইকারী ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তিনি বলেন, আইস ফ্যাক্টরিগুলো আরেকটু মানবিক হলে জেলেদের হয়রানি কমে যেত।