ঢাকা, সোমবার ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

Live

ঘূর্ণিঝড়ে ধানের ব্যাপক ক্ষতি

২০:৫৬, ১১ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর প্রভাবে কলাপাড়াসহ উপকূলীয় এলাকায় কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এবং কুয়াকাটা ও কলাপাড়া পৌরশহরের ৩৬২টি কাঁচা বসত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

সরেজমিন উপজেলার নীলগঞ্জ, টিয়াখালীর বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকের পাকা এবং আধাপাড়া আমন ক্ষেতের ধান ঝড়ের তাণ্ডবে পানির সঙ্গে লুটে আছে।

টিয়াখালী ইউনিয়নের মো. নজরুল হাওলাদার বলেন, আমার এক কানী জমির ধান ঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই অবস্থার কথা জানালেন নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মো. ফরিদ উদ্দিন।

নীলগঞ্জ ইউনিয়নে কুমিরমারা সবজি চাষি সৈয়দ গাজী জানান, তার বাড়ির উঠান এবং জমিতে সালগম, বাঁধাকপি, বেগুন, ধনেপাতা, লাল শাকসহ বিভিন্ন প্রজাতির শাক-সবজি চাষ করেছেন। এর ভেতর অর্ধেক জমির সবজি আংশিক নষ্ট হয়ে গেছে। দুয়েকদিন পর বোঝা যাবে কী পরিমাণে সবজি রক্ষা করা যায়।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আ. মান্নান জানান, উপজেলায় এ বছর আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৩৪ হাজার ৪৯০ হেক্টর। ঝড়ের তান্তবে ১৫ শতাংশ হারে ৫ হাজার ১৭৩ হেক্টর জমির ধান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা নীলগঞ্জ, ধানখালী, টিয়াখালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৫২০ হেক্টর জমি ও বাড়ির উঠানে শাক-সবজি চাষ করেছেন কৃষকরা। ৩০ শতাংশ হারে ১৫৬ হেক্টর জমির শাক-সবজি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কৃষকরা জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন করার সুযোগ না পেলে ৭০ শতাংশ হারে কৃষি আবাদের ক্ষতির সম্ভাবনার কথা নিশ্চিত করেছেন কৃষিবিদরা।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সকল তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ক্ষতিগ্রস্তদের স্বচ্ছতার সঙ্গে পুনর্বাসন এবং সহায়তা প্রদান করা হবে।