ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

Live

গরুতে হাটভর্তি হলেও ক্রেতার আগ্রহ নেই

১১:৩৭, ৮ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার

রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোয় প্রচুরসংখ্যক পশু এসেছে। নির্ধারিত এলাকা ছাড়িয়ে হাট সম্প্রসারিত হচ্ছে আশপাশে। অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট দখল করে বসানো হয়েছে গরুর হাট। গরু বাঁধার জন্য অনেক এলাকায় পাকা রাস্তা খুঁড়ে পোঁতা হচ্ছে বাঁশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই ইজারাদাররা এসব কাজ করলেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন তারা। বাজারে প্রচুরসংখ্যক পশু এলেও সে তুলনায় ক্রেতাদের মাঝে তেমন উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। চারদিক মহামারি আকার ধারণ করা ডেঙ্গুর কারণে আতঙ্কাবস্থা বিরাজ করছে রাজধানীর ঘরে ঘরে। সে কারণে কোরবানির ঈদ নিয়ে তুলনামূলক কমই ভাবছেন নগরবাসী। জনগণের এমন দুশ্চিন্তুমূলক দৈনন্দিন অবস্থা প্রভাব ফেলেছে পশুর হাটে। বিক্রেতার তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। ফলে বেচাকেনা এখনো শুরু হয়নি বললেই চলে।


রাজধানীর শাজাহানপুরে মৈত্রী সঙ্ঘ মাঠ এলাকায় গতকাল কথা হয় কুষ্টিয়া থেকে আসা বেপারি সোলায়মানের সাথে। তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ১৫টি গরু নিয়ে এসেছেন তিনি। গত রাত নির্ঘুম পার করার কারণে দিনের বেলায় ঘুম-ক্লান্তিতে চোখ ভেঙে পড়ছে তার। সোলায়মানের মতো আরো অনেককেই দেখা যায় বিশ্রাম নিতে, কেউ বা ধুয়ে দিচ্ছিলেন গরুর শরীর। অনেক বেপারিই বিক্রির চাইতে গরুকে খাবার খাওয়ানোয় বেশি ব্যস্ত। দু’একজন ক্রেতা এসে দাম জিজ্ঞেস করলেও এরা প্রকৃত ক্রেতা নয় বলে মনে করছেন বিক্রেতারা। কেনাকাটা এখনো তেমন শুরু হয়নি বলে জানালেন হাট পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।


তিন দিন পর কোরবানির ঈদ, তাই ক্রেতা ধরতে ঢাকার পশুর হাটগুলোতে বিভিন্ন আকারের গরু, ছাগল, মহিষ নিয়ে হাজির হয়েছেন দেশের নানা প্রান্তের ব্যবসায়ীরা। সদরঘাট-গাবতলী সড়কের পশ্চিম পাশের এই স্থায়ী হাটের বিস্তৃতি আমিনবাজার সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়েছে। পূর্ব দিকের বড় অংশজুড়ে গরু, মাঝখানে কিছু অংশে ছাগল এবং পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে কিছু মহিষ। সেখানে দুয়েকটি উটও রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য। এই হাটে মধ্যবিত্তের জন্য যেমন মাঝারি ও ছোট আকারের গরু এসেছে, তেমনি ধনীদের ধরতে বিশাল আকারের গরু নিয়ে হাজির হয়েছেন খামারিরা। এদেরই একজন ঝিনাইদহের আব্দুল্লাহ এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্মের মালিক শাহ আলম মিয়া। তার বহরে রয়েছে পাঁচটি গরু। এর মধ্যে জার্সি জাতের ‘যুবরাজের’ দাম চাইছেন ৪০ লাখ টাকা। প্রায় দুই টন ওজনের এই বলদ গরুর দাম ইতোমধ্যেই ২৭ লাখ টাকা উঠেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।


এদিকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে রাজধানী ঢাকার পশুর হাটের আশপাশে অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ঈদের আগে তিন দিন খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সাথে এসব ব্যাংকের শাখাগুলোকে সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিং চালু রাখতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ১২ অগাস্ট কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। তার আগে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। রোববার ঈদের ছুটি। এই তিন দিন ঢাকার পশুর হাটগুলোতে বেশি বেচাকেনা হবে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই বাংলাদেশ ব্যাংক এসব এলাকার ব্যাংকের শাখাগুলো খোলা রেখে সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিং কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। 


গতকাল বুধবার সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত কোরবানির পশুর হাটগুলোতে প্রচুর ব্যবসায়ীর সমাগম ঘটে এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের লেনদেন হয়ে থাকে। ফলে হাটগুলোতে আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তার বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কোরবানির পশুর হাটগুলোর কাছে দূরত্বেই বিভিন্ন ব্যাংক-শাখা তাদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। হাটগুলোর নিকটবর্তী এসব ব্যাংক-শাখা ব্যবহার করে কোরবানির পশু ব্যবসায়ীরা তাদের পশু বিক্রির অর্থ লেনদেনে ব্যাংকের সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন। 
গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকায় এবার অস্থায়ী পশুর হাট বসছে ২৩টি। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৯টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বসছে ১৪টি অস্থায়ী হাট। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন চাচ্ছে শেষ মুহূর্তে এসে আরো দুটি হাটের অনুমতি দিতে। ৩০০ ফিট সড়কের হাটের টেন্ডার আহ্বান করেও পরে তা বাতিল করা হয়। অধিকাংশ হাটের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। তবে ডেঙ্গু সমস্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় কর্তপক্ষকে এবার সেদিকেই বেশি নজর দিতে হচ্ছে। হাটগুলোর টেন্ডার থেকে এবার দুই সিটির আয় হয়েছে ২২ কোটি টাকারও বেশি।
ডিএসসিসির অস্থায়ী হাটগুলো হলোÑ উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সঙ্ঘের মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ঝিগাতলা-হাজারীবাগ মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি স্থান, কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন খালি জায়গা, মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আশপাশ এলাকার খালি জায়গা, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সামসাবাদ মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি স্থান, কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা, শনিরআখড়া ও দনিয়া মাঠসংলগ্ন ফাঁকা জায়গা, ধূপখোলা মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউয়ারটেক মাঠসংলগ্ন আশপাশ এলাকার স্থান, আফতাবনগর ইস্টার্ন হাউজিং মেরাদিয়া মৌজার সেকশন-১ ও ২, খিলগাঁও রেলগেটের পশুর হাট এবং পোস্তগোলা শ্মশানঘাটসংলগ্ন পশুর হাট।
ডিএনসিসির অস্থায়ী হাটগুলো হলোÑ উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর ব্রিজের পশ্চিম অংশে ও ২ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমে গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের উভয়পাশের ফাঁকা জায়গা; মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়কসংলগ্ন (বছিলা) পুলিশ লাইনসের খালি স্থান; মিরপুর সেকশন-৬, ওয়ার্ড ৬-এর (ইস্টার্ন হাউসিং) খালি জায়গা; মিরপুর ডিওএইচএসের উত্তর পাশের সেতু প্রপার্টিসংলগ্ন ফাঁকা স্থান; ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খেলার মাঠ; ভাটারা (সাঈদনগর) পশুর হাট; বাড্ডার ইস্টার্ন হাউসিং (আফতাবনগর) ব্লক-ই, আফতাবনগর সেকশন ৩-এর খালি জায়গা এবং কাওলা-শিয়ালডাঙ্গাসংলগ্ন এলাকা। এছাড়া গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাট তো রয়েছেই।