ঢাকা, রোববার ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

Live

কৃষির সবচেয়ে বড় সমস্যা হাউজিং

১৫:১৮, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রোববার

সারা দেশজুড়ে হাউজিংসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কারণে প্রতিনিয়ত চাষের জমি কমছে। যে হারে বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে তাতেআগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে দেশে চাষের জমি বলে কিছু থাকবে না, বললেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং এর সাবেক উপপরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস।


এদিকে কৃষি গবেষক ও পুষ্টিবিদ ড. মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার জানান, স্বাধীনতার ঠিক পরে ১৯৭২ সালে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছিলো এক কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন। সাড়ে ৭ কোটি মানুষের জন্য এই খাদ্য পর্যাপ্ত ছিলো না। পরের ৪৭ বছরে এখানে মানুষ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি, আর আবাদি জমি কমেছে শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগ। তবুও দেশে এখন খাদ্যশস্য উৎপাদন হচ্ছে তিনগুণ বেশি, ভুট্টাসহ এর পরিমাণ চার কোটি মেট্রিক টনের বেশি। আর এভাবেই প্রধান খাদ্যশস্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশ হেক্টরপ্রতি ধানের ফলনে বিশে^ তৃতীয়। চীন ও ভিয়েতনামের পরে বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলার কৃষকরা এখানেই থেমে নেই। একই জমিতে একাধিক ফসল চাষের দিক থেকেও বাংলাদেশ এখন বিশে^র জন্য পথিকৃত। বাংলাদেশ এখন তিন ফসলি জমিকে চার ফসলি জমিতে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করছে।


খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সবচেয়ে প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইএফপিআরআই) ক্ষুধা সূচকের প্রতিবেদনের বরাতে তিনি জানান, ক্ষুধা সূচকে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। কিন্তু এতো সাফল্যের পরেও বিশে^র জনবহুল বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকা সমতল হওয়ায় এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে লোকসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে লোকসংখ্যা ১৬ কোটির বেশি, প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করে ১১৬৪ জন। প্রতিদিন প্রায় ৭০০০ নতুন মুখের জন্ম হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রতিদিন ১৮৮ হেক্টর হিসেবে বছরে প্রায় ৬৮৭৬০ হেক্টর জমি চাষের বাইরে চলে যাচ্ছে। যা আগামীর বা টেকসই কৃষির জন্য বড় সমস্যা। অন্যদিকে বৈশি^ক জৈব জ¦ালানি ব্যবহারের বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে বিশে^ খাদ্যশস্য উৎপাদনের সুযোগ দিনে দিনে সংকুচিত হচ্ছে। তাই বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টি পূরণ করা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

কৃষি কাগজ/এস এম

সূত্রঃ আমাদের অর্থনীতি