ঢাকা, বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০ | ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

Live

করোনা সংকটে মাসে রংপুরে দুগ্ধ খামারিদের লোকসান ৩ কোটি টাকা

২৩:৫৩, ১২ মে ২০২০ মঙ্গলবার

দেশজুড়ে করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্রেতা না থাকায় দুগ্ধ খামারিরা উৎপাদিত দুধ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। জরুরি পরিসেবা ছাড়া সব ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দুধ বাজারজাত করা যাচ্ছে না। তাই এ সব দুগ্ধ খামারি চরম ক্ষতির মুখে পড়ে পূঁজি হারাতে বসেছেন।

চলমান সাধারণ ছুটিতে রংপুর জেলার দুগ্ধ খামারিদের প্রতিদিন ক্ষতি গুনতে হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। আর গেল এক মাসে এই লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে। এতে দুগ্ধ খামারের ওপড় নির্ভরশীল প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনায় তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এখন খামার টিকিয়ে রাখতে জরুরি অনুদান চাইছেন তারা।

 

রংপুর নগরীর রবার্টসনগঞ্জ তাঁতীপাড়ার এসআর দুগ্ধ খামারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনার কারণে এখন কোম্পানিগুলো পরিবহন ব্যবস্থা সীমিত করেছে। খামারিদের কাছ থেকে আগের মতো দুধ কিনছেন না। যা নিচ্ছে তাও পরিমাণে অনেক কম। আর শহরের চা-মিষ্টির দোকানসহ হোটেল-রেস্তোরা বন্ধ থাকায় এখন উৎপাদিত দুধ কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে নগরীর সাতমাথা, বীরভদ্র বালাটারি, তামপাট, নূরপুর মহাদেবপুর ও গুপ্তপাড়া গ্রামের খামারিরা জানান, বর্তমানে প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে তাদের খরচ হচ্ছে ৪০ টাকা। কিন্তু বিক্রির বেলায় এর চেয়ে কম দামে ছাড়তে হচ্ছে।

এ ব্যপারে রংপুর ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এসএম আসিফুল ইসলাম বলেন, রংপুরে প্রতিদিন অনুমানিক সোয়া লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ৪০ টাকারও বেশি। লকডাউনের কারণে হোটেল আর মিষ্টির দোকানসহ দুধ সরবরাহকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রতিদিন অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ দুধ। বাধ্য হয়ে অনেকেই ৩০ টাকা লিটারে দুধ বিক্রি করছেন।

রংপুর ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লতিফুর রহমান বলেন, বর্তমানে প্রতিটি খামার ঘাটতিতে আছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে গেল এক মাসে তিন কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুগ্ধ খামারে উৎপাদন ধরে রাখতে ও ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে এখন প্রণোদনার অর্থ দ্রুত দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় এই দুর্যোগে খামার টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হবে।

রংপুর জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা শাহাজালাল খন্দকার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কারো অনুকূলে নেই। এ অবস্থায় খামারিদের উৎপাদিত দুধ বিক্রির ক্রেতা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে লোকসান কমাতে খামারিদের দানা খাবারের নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। বর্তমানে সবুজ ঘাসের মৌসুম চলছে তাই দানাদার খাবারের পরিবর্তে সবুজ ঘাস খাওয়ানোর ব্যবস্থা করলেও খামারিদের খরচ অনেক কমে আসবে।