ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

Live

কমতির দিকে অস্ট্রেলিয়ার যব রফতানি

১৫:৪৩, ৮ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার

অস্ট্রেলিয়ার রফতানিমুখী কৃষিপণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম যব। ২০১৬ সালে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি যব রফতানি হয়েছিল। এর পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার যব রফতানি খাতে মন্দা দেখা দেয়। চলতি বছরের এপ্রিলে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ৩ লাখ ৯ হাজার ৪০৮ টন যব রফতানি হয়েছে। আর মে মাসে রফতানি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২ হাজার ৩৩৪ টনে। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যশস্যটির রফতানি কমেছে ২ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

বিশ্বে যব উৎপাদনকারী দেশগুলোর শীর্ষ তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান চতুর্থ। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর প্রতি বছর দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ যব রফতানি হয়। বিশ্বে কৃষিপণ্যটির রফতানিকারকদের শীর্ষ তালিকায় অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। দেশটিতে উৎপাদিত যবের উল্লেখযোগ্য অংশ রফতানি হয় জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানে।

অস্ট্রেলিয়ার বাজার-বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মার্কেট চেকের স্ট্র্যাটেজি-বিষয়ক প্রধান নিক চুরুনডাল বলেন, পশ্চিম ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া থেকে খাদ্যশস্যটি সংগ্রহ করা ক্রমেই কঠিন থেকে কঠিন হচ্ছে। ফলে যম রফতানি কমে যাচ্ছে। দেশটিতে খাদ্যশস্যটির উৎপাদন বাড়লেও রফতানি স্বাভাবিক নিয়মে কমে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের তথ্যমতে, ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৯১ লাখ ৯০ হাজার টন যব রফতানি হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি। দেশটির ইতিহাসে এটাই যব রফতানির সর্বোচ্চ রেকর্ড।

এর পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার যব রফতানি খাতে টানা মন্দা ভাব দেখা গেছে। ২০১৭ সালে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৫৭ লাখ ২৫ হাজার টন যব রফতানি হয়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়া থেকে কৃষিপণ্যটির রফতানি কমেছে ৩৭ দশমিক ৭০ শতাংশ।

মন্দা ভাবের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ২০১৮ সালে অস্ট্রেলীয় রফতানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ৪৫ লাখ টন যব রফতানি করতে সক্ষম হন, যা আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ কম।

আর চলতি বছর শেষে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে যব রফতানিতে চাঙ্গা ভাব ফিরে আসতে পারে বলে জানিয়েছে ইউএসডি। প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়া মোট ৫০ লাখ টন যব রফতানি করতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি।

দেশটিতে ছোট পর্যায়ের চাষীদের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উৎপাদিত যবের একটি বড় অংশ এখন দেশটির চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা হচ্ছে। এজন্য ধারাবাহিকভাবে দেশটির রফতানি কমে আসছে বলে মনে করেন নিক চুরুনডাল।