ঢাকা, মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬

Live

কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ভারতের চা রফতানি?

১৬:০৭, ২৪ মার্চ ২০২০ মঙ্গলবার

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে হিমশিম খাচ্ছে গোটা বিশ্ব। ভেঙে পড়ছে বাণিজ্য শৃঙ্খল। এ পরিস্থিতিতে ভারতের চা রফতানি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে? খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাণঘাতী ভাইরাসটির প্রকোপে ভারত থেকে চা রফতানি অপ্রত্যাশিতভাবে কমে যেতে পারে। প্রধান রফতানি জোনগুলোতে এরই মধ্যে পানীয় পণ্যটির ক্রয়াদেশ সংকুচিত হতে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে সামনে বিপদের আশঙ্কা দেখছে টি বোর্ড অব ইন্ডিয়া। সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নিতে পণ্যটির রফতানিকারকদের সম্প্রতি এক বৈঠকে আহ্বান জানায় দেশটির টি বোর্ড। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

ভারতের টি বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারম্যান এ কে রায় বলেন, চলতি মৌসুমে ভারতে রেকর্ড চা উৎপাদন হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে উদ্বৃত্ত চায়ে বাজার ছেয়ে গেছে। ফলে দেশটির চা খাত এমনিতেই সংকটের মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ। এ দুয়ের যোগে চলতি বছর ভারতের চা রফতানি খাত গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন তিনি। এরই মধ্যে এ খাতে অর্থনৈতিক সমস্যা বিরাজ করছে, আগামী দিনগুলোয় তা আরো গভীর হয়ে উঠতে পারে।

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শাটডাউনে চলে গেছে। ভারতের চায়ের শীর্ষ বাজার ইরান ও জাপানসহ বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ গণপর্যায়ে পৌঁছেছে। জাপান এরই মধ্যে একটি চা প্রদর্শনী বাতিল করে দিয়েছে।


গত বছর রাশিয়াকে টপকে ভারতের চা রফতানির শীর্ষ গন্তব্যে পরিণত হয় ইরান। ওই সময় ভারত থেকে মোট ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার কেজি চা রফতানি হয়েছিল ইরানে। সম্প্রতি দেশটিতে করোনাভাইরাসের প্রভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলে দেশটিতে এবার পণ্যটির রফতানি ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বমহামারীর প্রকোপে চীনের বাজারেও ভারত থেকে চা রফতানি ব্যাহত হতে পারে, যা পানীয় পণ্যটির অন্যতম শীর্ষ বাজার। ভারত থেকে চীন সাধারণত গ্রিন টি কিনে থাকে। এছাড়া কয়েক বছর ধরে ভারতের সিটিসি জাতের চায়ের নতুন বাজার হয়ে উঠেছে বেইজিং। ২০১৯ সালে ভারত থেকে চীনে ১ কোটি ৩০ হাজার কেজির বেশি চা রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি ছিল।

এদিকে ভারতের ব্যয়বহুল দার্জিলিং চায়ের অন্যতম শীর্ষ বাজার জাপান। গত বছর দেশটিতে মোট ৫০ লাখ কেজি চা রফতানি করেছে ভারতের রফতানিকারকরা। করোনাভাইরাসের জেরে চলতি বছর জাপানেও পানীয় পণ্যটির রফতানি কমে যাবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল ভারতের চা কোম্পানিগুলোর জন্য বছরের অন্যান্য মাসের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ সময়। কারণ পণ্যটির প্রাক-ক্রয়াদেশ বা ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিগুলো এ সময়েই স্বাক্ষরিত হয়। তবে মহামারীর কারণে এ বছরে এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হতে দেখা যাচ্ছে না, যা দেশটির টি বোর্ডকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

গত বছর ভারতের চা রফতানি খাতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ইরানের বাইরে পশ্চিম এশিয়ার বেশির ভাগ দেশে পানীয় পণ্যটির রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ভারতীয় টি বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ভারত থেকে এ অঞ্চলের দেশগুলোয় আগের বছরের তুলনায় পণ্যটির রফতানি গড়ে ৪১ শতাংশ বা ২ কোটি ৩০ লাখ কেজি কমে গেছে।

এছাড়া বেক্সিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের বাজারে গত বছর দেশটি থেকে চায়ের রফতানি ২৫ শতাংশ বা ১ কোটি ২০ লাখ কেজির মতো কমে গেছে। একই পরিস্থিতি বজায় রয়েছে পাকিস্তানের বাজারেও। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি ব্যাপক হারে কমে গেছে। এর আগে ভারতের চা রফতানি খাতের চতুর্থ শীর্ষ বাজার ছিল পাকিস্তান।

এ কে রায় বলেন, চলতি বছর ভারতের চা রফতানি পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনিতেই গত বছর দেশটি রেকর্ড চা উৎপাদন করেছে। এর ওপর আবার পণ্যটির অভ্যন্তরীণ ব্যবহার কমে গেছে। ফলে প্রচুর চা উদ্বৃত্ত থেকে গেছে, যা পণ্যটির দাম কমিয়ে আনতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। ২০১৯ সালে ভারতে ১৩৯ কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি এবং এ-যাবত্কালের সর্বোচ্চ। অন্যদিকে এ সময়ে দেশটিতে পানীয় পণ্যটির অভ্যন্তরীণ ব্যবহার ও রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কমে গেছে।