ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

Live

আড়াই লাখ টন চাল আমদানি করবে অস্ট্রেলিয়া

১৩:৪৮, ১৭ জুন ২০১৯ সোমবার

অস্ট্রেলিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এশীয় অভিবাসীর বসবাস। বিশেষত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে অনেক মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হয়েছেন। তাদের প্রধান খাবার ভাত। এ কারণে অস্ট্রেলিয়ায় চালের চাহিদাও তুলনামূলক বেশি। প্রতি বছর দেশটিতে সাড়ে তিন লাখ থেকে চার লাখ টন চালের চাহিদা রয়েছে। সে তুলনায় খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন বাড়াতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া সরকার। ফলে দেশটির চালের বাজার আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। চলতি বছর উৎপাদন না বাড়ার কারণে চাল আমদানি বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করবে দেশটি। এর অংশ হিসেবে বছর শেষে আড়াই লাখ টন চাল আমদানি করতে পারে অস্ট্রেলিয়া, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। খবর এগ্রিমানি ও উইকলি টাইমস।

অস্ট্রেলিয়ার চাল উৎপাদন ও আমদানি পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের পর থেকে প্রতি বছরই অস্ট্রেলিয়ায় চালের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার তিন লাখ টনের বেশি ছিল। ২০১০ সালে তা দাঁড়িয়েছিল ৩ লাখ ৮ হাজার টনে। এর পর বাড়তে বাড়তে ২০১৭ সালে ৩ লাখ ৯০ হাজার টনে উন্নীত হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। গত বছর দেশটিতে চালের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার ১০ লাখ টন কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টনে। আর চলতি বছর শেষে অস্ট্রেলিয়ায় চালের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার ৩ লাখ ৪০ হাজার টনে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ। প্রতিষ্ঠানটির মতে, চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ায় চালের ব্যবহার আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমলেও তা তিন লাখ টনের অনেক উপরে থাকবে।

খাদ্যপণ্যটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা সাড়ে তিন লাখ টনের কাছাকাছি থাকলেও অস্ট্রেলিয়ায় চাল উৎপাদন হবে অনেক কম। ইউএসডিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদন হয়েছিল। ওই বছর অস্ট্রেলিয়ার কৃষকরা ৮ লাখ ৩৬ হাজার টন চাল উৎপাদন করেছিলেন, যা নিজস্ব চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। তবে এর পর থেকে দেশটির চাল উৎপাদন খাতে ধারাবাহিক মন্দাভাব বজায় রয়েছে। কমতে কমতে ২০১৭ সালে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৫৪ হাজার টনে। প্রতিকূল আবহাওয়ার জের ধরে গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় চাল উৎপাদন সাকল্যে ৭৫ হাজার টনে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম। চলতি বছর শেষে অস্ট্রেলিয়ায় চাল উৎপাদন ৭৫ হাজার টনে অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ।

সেই হিসাবে, ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় চালের চাহিদা ও উৎপাদনে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৬৫ হাজার টনে। আর এ ঘাটতি পূরণ করতেই চাল আমদানি বাড়াতে হচ্ছে দেশটিকে। ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়া ১ লাখ ৫৭ হাজার টন চাল আমদানি করে। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি। গত বছর অস্ট্রেলীয় আমদানিকারকরা মোট দুই লাখ টন চাল আমদানি করেছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। আর চলতি বছর শেষে অস্ট্রেলিয়ায় খাদ্যপণ্যটির আমদানি আগের বছরের তুলনায় আরো ২৫ শতাংশ বেড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টনে উন্নীত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির আমদানি ৫০ হাজার টন বাড়তে পারে। আর এটাই হবে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে চাল আমদানির সর্বোচ্চ রেকর্ড।