ঢাকা, সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

Live

আলু রপ্তানির টার্গেটে কাজ করছে সরকার

১২:১৭, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার

দেশে চাহিদার চেয়েও আলু উৎপাদন হচ্ছে। তবে রপ্তানিযোগ্য না হওয়ায় সেসব আলু অনেকটাই নষ্ট হচ্ছে। মানসম্মত বীজ না পাওয়ায় মানসম্মত আলু উৎপাদন হচ্ছে না। আর এজন্য একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ৬৮৮ কোটি টাকার প্রকল্পটির অনুমোদনও মিলেছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৪২ জেলার প্রায় সাড়ে আট হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

এর ফলে তারা মানসম্মত আলুবীজ উৎপাদন করতে পারবেন। আর আলু হয়ে উঠবে বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানিপণ্য। ঢাকাটাইমস আলু বাংলাদেশে দ্বিতীয় প্রধান খাদ্য। বর্তমানে আলু উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান আষ্টম। দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইতোমধ্যে আলু বিদেশে রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে। তবে, রোগ মুক্ত ও উপযোগী জাতের বীজ আলুর অভাব, প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের আপ্রতুলতা, অপর্যাপ্ত হিমাগার সুবিধা, প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের অভাব এবং দেশের অনিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থা দেশের আলু চাষাবাদে প্রধান প্রতিবন্ধকতা।


জানা যায়, দেশে বর্তমানে ১০৩ দশমিক ১৭ লাখ টনের মতো আলু উৎপাদন হচ্ছে। আর বীজের চাহিদা রয়েছে সাড়ে ৭ লাখ। বর্তমানে সরকারি সংস্থা বিএডিসি চাহিদার মাত্র ৪ শতাংশ আলু বীজ সরবরাহ করে। আর বেসরকারি খাত হতে মাত্র আসে ১ শতাংশ। ফলে অবশিষ্ট ৯৫ শতাংশ বীজই কৃষকরা নিজে উৎপাদন করেন অথবা স্থানীয় উৎস হতে সংগ্রহ করেন। আর এই সিংহভাগ আলুবীজেরই গুণগত মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।


দেশে এবার চাহিদার চেয়ে ৩৩ লাখ টন আলু বেশি উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু গুনগত আলু বীজ না পাওয়ায় মানসম্পন্ন আলুও উৎপাদন হয়নি। যার এই অতিরিক্ত আলু ফলে বিদেশে রপ্তানিও করা যাচ্ছে না।
এ সমস্যা সমামধানে সরকার বড় প্রকল্প নিয়েছে। ‘মানসম্পন্ন বীজ আলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং কৃষক পর্যায়ে বিতরণ জোরদারকরণ’ শির্ষক প্রকল্পটি সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাস হয়েছে। দেশের ৮টি বিভাগের ৪২টি জেলার ১৭৮ টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৮ হাজার ৪০০ কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। যেখানে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ৫৯৬ কোটি ২১ লাখ টাকা ও বিএডিসির নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৯২ কোটি টাকা।


কৃষিমন্ত্রী কৃষিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আলু এবার এককোটি তিন লাখ টন উৎপাদন হয়েছে। আমাদের প্রয়োজন ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন। প্রায় ৩৩ লাখ টন আলু আমাদের উদ্বৃত্ত। কিন্তু মানসম্পন্ন আলু উৎপাদন না হওয়ার কারনে সেটা রপ্তানি করা যাচ্ছে না। আলুতে পোকা পাওয়ার কারণে একবার রপ্তানিতে সমস্যা হয়েছে।’


কৃষিকে বাণিজ্যিকিকরণ করা চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে বিদেশে খাদ্য রপ্তানি করতে না পারার মূল কারণ হলো আমাদের এ্যাগ্রো বেসিস ল্যাব নেই। আমরা আধুনিক মানসম্পন্ন ল্যাব করবো। কৃষিকে আধুনিকিকরণ, বাণিজ্যিকিকরণ, ও যান্ত্রিকিকরণে কাজ করছি।’
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের দেশে প্রচুর আলু উৎপাদন হয়, যা আমরা খেয়ে শেষ করতে পারি না। তাই এখন থেকে আলু রপ্তানি করতে হবে। সেজন্য ভালো মানের আলুর বীজ আনতে হবে। ভালো করে সার্টিফায়েড করার জন্য ভালো মানের ল্যাবরেটরি বানানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’


রোগমুক্ত উন্নতমান ও জাতের ১,৮৭,০৭৪ মেট্রিকটন বীজ আলু উদপাদন, সংরক্ষণ ও সারা দেশে কৃষকদের কাছে সরবরাহ করা। নতুন হিমাগার স্থাপন এবং বিদ্যামান হিমাগারগুলি আধুনিকায়নের মাধ্যমে বীজ আলু সংরক্ষণ বৃদ্ধি এবং চুক্তিবদ্ধ চাষি , বীজ ডিলার বেসরকারি বীজ উৎপাদনকারী, এনজিও ও সাধারণ কৃষকদের আধুনিক আলু চাষের কলাকৌশনের উপর জ্ঞান এবং দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান। এর মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে মানসম্পন্ন বীজ আলু সরবরাহ মাধ্যমে বাংলাদেশে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরা যাবে।


বিএডিসির আলুবীজ বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মোট চাহিদার ৬ শতাংশ মানসম্পন্ন বীজ আলু উৎপাদন সংরক্ষণ কৃষি পর্যায়ে বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেয়া হবে প্রকল্পের আওতায়। এছাড়া চারটি নতুন হিমাগার নির্মাণের মাধ্যমে বীজ আলুর ধারণ ক্ষমতা ৮ হাজার মেট্রিকটন বৃদ্ধি করা হবে।
বিদ্যমান ৩০টি হিমাগার সার্ভিসিং-ওভারহোলিং ও পুরাতন দুটি হিমাগার সংরক্ষণ ও আধুনিকায়ন করা হবে। তিনিটি অফিস ভবন, ২০ হাজার বর্গমিটার সটিং শেড, ২ হাজার রানিং মিটার সীমানা প্রাচীরসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হবে।


এছাড়া ৩ দশমিক ৫৯ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ৬৭ লাখ ৪৮ হাজার চটের বস্তা, ৪ হাজারটি ত্রিপল, ৪১৪টি কৃষি, সেচ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি ক্রয়, দেড় হাজার প্রদর্শনী প্লট স্থাপন এবং ৮ হাজার ৪০০ চুক্তিবদ্ধ কৃষক, বীজ ডিলার, এনজিও কর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।


দেশের ৮টি বিভাগের ৪২টি জেলার ১৭৮টি উপজেলা প্রকল্পের আওতায় রাখা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগের ঢাকা, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর জেলা। ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ জেলা।রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ জেলা। রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ঠাকুররগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামাড়ী জেলা। খুলনা বিভাগের যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা। বরিশাল বিভাগের বরিশাল, পটুয়াখালি, ভোলা জেলায়। চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার জেলা। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায়।