ঢাকা, মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

Live

আজ রাত ১২টার পর ইলিশ শিকারে নামছেন জেলেরা

১২:৩৬, ৩০ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার

মা-ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ বুধবার রাত ১২টায় শেষ হবে। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ রাত থেকে উন্মুক্ত সাগর ও নদীতে নামতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন জেলেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী ও আমতলী, পটুয়াখালীর গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, কলাপাড়ার মহিপুর, কুয়াকাটার সাগর পাড়ের জেলেরা মাছ শিকারে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। জেলেরা জানান, ২২ দিনে তারা মাছ শিকারে নামতে পারেননি। সংসারে অভাব-অনটন প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলেরা বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে চড়া সুদে টাকা ধার, কেউবা এনজিও, সমিতি, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। ট্রলার, নৌকা, জাল মেরামত কাজ সম্পন্ন করে রাত থেকেই সাগরে নামতে তারা সব আয়োজন সমাপ্ত করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বরিশালের মেঘনা, কালাবদর, তেতুলিয়া, মাসকাটা, কীর্তনখোলা নদীতে মত্স্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আটক জাল এবং জেলেদের পাশাপাশি যেসব মাছ পাওয়া গেছে সেসব মাছের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ইলিশেরই পেটভর্তি ডিম পাওয়া যায়। সকাল থেকে মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ, গজারিয়া ও কীর্তনখোলা নদীতে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া মত্স্য অধিদপ্তরের মত্স্য কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে জানান, সন্তোষজনক ডিম ছেড়েছে মা-ইলিশ। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা রক্ষা অভিযান চলবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এখন ইলিশ আহরণ না করলে তা সাগরে চলে যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযানে বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ১৭২ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা এবং প্রায় ১৭ টন ইলিশ ও ৮৪ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় মত্স্য অফিসের উপপরিচালক আজিজুল হক।

নিষেধাজ্ঞার সময় অভিযান পরিচালনাকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে জানান, অভিযানের সময়সীমা কিছুদিন বৃদ্ধি করা হলে যেসব মা-ইলিশ এখনো ডিম ছাড়তে পারেনি তার অধিকাংশই ডিম ছাড়ত। ৪০ শতাংশ মা-ইলিশ ডিম ছাড়লে মিঠা পানির ইলিশের প্রাচুর্য বেড়ে যেত।

জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়ার রহমান ইত্তেফাককে জানান, মা-ইলিশ রক্ষায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যৌথ টিম কাজ করেছে। সবাই একযোগে কাজ করায় এবার অভিযানে ব্যাপক সফলতাও এসেছে।