ঢাকা, সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

Live

অর্থনীতির স্বার্থে ক্যাসিনো বিরোধী শুদ্ধিঅভিযান অব্যাহত রাখতেহবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮:২৯, ৪ অক্টোবর ২০১৯ শুক্রবার

ঢাকায় স্কুলের সেমিনারে বক্তারা অর্থনীতির স্বার্থে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। দুর্নীতিগ্রস্ত অন্যান্য খাতেও অভিযান পরিচালনা করতে হবে। আজ শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্স (ডিএসসিএ) আয়োজিত ২দিনব্যাপী সেমিনার বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকস গভর্নিংবডির চেয়ারপারসন ড কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, এনার্জিপ্যাকের এমডি হুমায়ুন রশীদ, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ,আইএফসি বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ নুসরাত নাহিদ ববি। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা স্কুলের উদ্যোক্তা অর্থনীতির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড মুহাম্মদ মাহবুব আলী।

 
অনুষ্ঠানে খলীকুজ্জামান বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দক্ষতা ও নৈতিকতার শিক্ষার অভাব রয়েছে। যার ফলে বালিশ কান্ড পর্দা কেলেঙ্কারি ঘটনা ঘটছে। ক্যাসিনো বিরোধী শুদ্ধি অভিযান চলছে।  এই অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। এটি শেষ শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। ব্যাংকসহ পর্যায়ক্রমে সকল খাতে এই অভিযান পরিচালনা করতে হবে। দেশের ব্যাংকের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ - সব ধরনের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।তিনি আরো বলেন,দেশে বৈষম্য বেড়েই চলেছে  ।  ভোগ, ব্যয়  ও সম্পদ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে মানুষ। কিছু মানুষের হাতে সব সম্পদ কুক্ষিগত হয়ে পড়ছে। তাই টেকসই উন্নয়নে এই বৈষম্য দূর করতে হবে।  
 
অনুষ্ঠানে হাসান আহমেদ কিরণ বলেন, এখন চতুর্দিকে ব্যবসা বাণিজ্য যুদ্ধ একসঙ্গে চলছে। রোহিঙ্গা নিয়ে প্রতিবেশী দেশ আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না এই ব্যবসা বাণিজ্যের কারণে।  দেশ থেকে অর্থ পাচার হচ্ছে।  বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা সরকারের নানা সুবিধা নিয়ে ব্যবসা করেও অর্থ পাচার করছে। 
 
 তিনি আরো বলেন, দেশে জনশক্তির অভাব রয়েছে। মানুষ বিদেশে আছে কিন্তু সেই তুলনায় রেমিট্যান্স কম আস।  এই দেশে ক্যাসিনো বাণিজ্য হচ্ছে তাদেরকে তাদের নামে 100 দেড়শ কোটি টাকার এফডিয়ার, নগদ টাকা আছে। বাইরে অর্থ চলে যাছে, লুটপাট হচ্ছে। একটি অভিযান চলছে।  অভিযান কতদিন চলবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মূল হোতারা ধরা পড়বে কিনা সেটা নিয়েও সংশয় রয়েছে। 
 
অনুষ্ঠানে এনার্জিপ্যাকের এমডি হুমায়ুন রশীদ বলেন, এলপিজি ব্যবসা করতে হলে 28 টি  সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রত্যয়ন পত্র নিতে হয় এতে 28 মাস সময় লাগে।  এত দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসা করা কঠিন।  সরকারি বিভিন্ন নিয়ম নীতি ব্যবসা বান্ধব নয়। 
 
অধ্যাপক মাহবুব আলী বলেন,   অর্থনীতিতে মারাত্মকভাবে স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোক্তারা আভাব। 17 কোটি দেশের মানুষের মধ্যে স্বল্পসংখ্যক ঢাকা ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স এর কাছে জিম্মি।  এ অবস্থায় সরকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অনার্স এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।
 
 মূল প্রবন্ধে নুসরাত নাহিদ ববি বলেন, দেশে উদ্যোক্তা তৈরীর মত অনেক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন উৎস থেকে। দেশের ব্যাংকের অবস্থা ভালো নয় খেলাপি ঋণে জর্জরিত। আইনগত অনেক বাধা রয়েছে।  এগুলো দূর করতে হবে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরীর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।  অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্স সহকারী অধ্যাপক রেহানা পারভীন ও সারা তাসনিম।
 

দু`দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয় একটি কলেজ,  এবং ভারতের দুটিবিশ্ববিদ্যালয় অস্ট্রেলিয়ার একটি এবং থাইল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিচ্চছে।  এ কর্মসূচির আওতায় তরুণ উদ্যোক্তাদের পুরস্কৃত করা হয় এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়।